
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গোমাংস বিতর্কে নেটদুনিয়া উত্তাল। শুক্রবার রাতে পার্ক স্ট্রিট্রের রেস্তরাঁয় বন্ধুদের নিয়ে নৈশভোজ সারতে গিয়ে অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন সায়ক চক্রবর্তী। অভিযোগ, তাঁরা পাঁঠার মাংস অর্ডার করলেও রেস্তোরাঁ থেকে গরুর মাংসের স্টেক পরিবেশন করা হয়। ঘটনার পরই সায়ক পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন। ঘটনার খবর দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘটনা অনভিপ্রেত বলে মানলেও, সায়ক চক্রবর্তীর এহেন আচরণের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেন মহল। টলিপাড়ার একাধিক শিল্পীও এই ঘটনার প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পনামাফিকভাবে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিনেতার আচরণের কারণে রেস্তোরাঁ কর্মীকে হেনস্তা করা হয়েছে, এ বিষয়টিও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যদি রেস্তোরাঁ কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়, তাহলে সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দায়ের হয়নি?

এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জয়রাজ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি। তিনি সোশাল মিডিয়ায় বিষয়টি জানিয়ে লিখেছেন, “ফেসবুকে নয়, থানায় গিয়ে অভিযোগ জানালাম জনৈক ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে।” প্রসঙ্গত, সায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালেই রেস্তোরাঁ কর্মী শেখ নাসিরউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় (কোনও শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা) মামলা রুজু করা হয়েছিল। আদালতে তোলা হলে জামিন পাননি ধৃত শেখ নাসিরউদ্দিন। এদিকে, ঘটনার দিন সায়কের সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুর মধ্যে একজন সোশাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অন্য খাবার দেওয়া নিয়ে কথোপকথন হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনো ধর্মীয় উসকানি দেননি। গোটা ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।
গোমাংস বিতর্ক শুধু খাবারের কারণে নয়, বরং টলিপাড়ার সামাজিক ও আইনি বিতর্কেও রূপ নিয়েছে। সায়কের হঠকারিতা, রেস্তোরাঁ কর্মীর গ্রেপ্তার এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে এই ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ইন্ডাস্ট্রিতে এবং নেটিজেনদের মধ্যে এই বিতর্ক অনেকাংশে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
