
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া, হেনস্তা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়লেন ধৃত জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালের বেডেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েননি তনয়। শুয়েই অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে হুমকি দিতে দেখা যায় তাঁকে। যদিও এই হুমকিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ মিমি। তাঁর সাফ বক্তব্য, “একটা লোককে যতটা ফুটেজ দেওয়া উচিত নয়, ততটা আমরা ইতিমধ্যেই দিয়ে ফেলেছি।”

Tanay Shastri is lying on a bed at Bangaon Hospital
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের পরিচালনায় একটি বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত থাকলেও অভিযোগ, প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে তিনি সেখানে পৌঁছন। ফলে মঞ্চে উঠতে উঠতে সময় গড়িয়ে যায় পৌনে ১২টা। প্রশাসনের অনুমতি অনুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্তই অনুষ্ঠানের সময়সীমা থাকায়, তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী মঞ্চে উঠে পড়ে গান বন্ধ করে দেন এবং তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়, যা তাঁর কাছে চরম অপমানজনক। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ক্লাব কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাসের দাবি, “মিমি চক্রবর্তীকে কোনও অসম্মান করা হয়নি। তিনি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে মঞ্চে ওঠেন। প্রশাসনের নির্দেশ ও মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে ঠিক রাত ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। এতে যদি তিনি অপমানিত বোধ করে থাকেন, তা অনিচ্ছাকৃত।”
মিমির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তিনদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তনয় শাস্ত্রীর বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে বনগাঁ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তনয় শাস্ত্রীর বাড়ির সামনে স্থানীয় মহিলারা জড়ো হয়ে পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির মধ্য দিয়েই পুলিশ তাঁকে আটক করে বাইরে নিয়ে আসে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তনয় শাস্ত্রী-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
