দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ধূমকেতু’র প্রচারে ঢাকঢোলের জোরে উত্তেজনা ছড়ালেও, ছবির মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই দেব-শুভশ্রী জুটিতে দেখা দিল ফাটল। এক দশক পরে নস্ট্যালজিয়াকে হাতিয়ার করে জাঁকজমক প্রচারাভিযান দেশু অনুরাগীদের উন্মাদনা বাড়িয়েছিল। কিন্তু মুক্তির পর বদলে গেল পুরো সমীকরণ। ক্ষোভ প্রকাশ করে ভক্তরা বলছেন, “এ তো আসলে আমাদের আবেগ নিয়ে খেলা!”
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানারকম গুঞ্জন। শোনা যায়, ‘ধূমকেতু’র প্রিমিয়ারে নাকি শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। আবার কারও দাবি, ছবির প্রচারপর্ব শেষ হতেই শুভশ্রী হয়ে পড়েছেন উপেক্ষিত। এর মধ্যেই ঘি ঢেলেছে দেবের সাম্প্রতিক মন্তব্য। ‘সুপারস্টার প্রাক্তনে’র বক্তব্যের সারমর্ম করলে দাঁড়ায়, দুই সন্তানের মা হওয়ার পর শুভশ্রী নাকি হারিয়েছেন তাঁর আগের সারল্য! আর এই মন্তব্য ঘিরেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। অবশেষে সেই প্রেক্ষিতেই মুখ খুললেন ‘ধূমকেতুর রূপা’ শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
সম্প্রতি এক মিউজিক চ্যানেলের খোলামেলা আড্ডায় দেবকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, ২০২৫ সালে যদি ‘ধূমকেতু’ তৈরি হত, তাহলে কি শুভশ্রীকে কাস্ট করা হত? প্রশ্নের উত্তরে দেব বলেন, “ডিপেন্ড করছে ও এখন কোন স্টেজে থাকত। ওর বিয়ে হয়ে গিয়েছে কিনা অথবা দুটো বাচ্চার মা হয়ে গিয়েছে কিনা এই সবকিছুই দেখতাম তখন।” সেই সাক্ষাৎকারেই দেবের সংযোজন, “আমি ছবিতে থাকলে আমাকে ওকেও নিতে হত, কিন্তু আমার চরিত্র কী ডিমান্ড করছে সেটাও আমাকে দেখতে হতো। শুভশ্রীর মধ্যে যদি সেই সারল্য না থাকত, তাহলে অন্য অভিনেত্রীকে বেছে নিতে হতো। শুভশ্রীর জায়গায় তখন অন্য কেউ কাজ করত।” এখানেই শেষ নয়!
নিজের প্রযোজিত প্রথম সিনেমায় শুভশ্রীকে কাস্ট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেই কি ‘ধূমকেতু’তে ‘রূপা’র চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে? এমন প্রশ্নের মুখে দেব জানান, “শুভশ্রী যদি চরিত্রের জন্য যথাযথ না হতেন তাহলে ছবিতে হয়তো তাকে নেওয়া হতো ঠিকই তবে মুখ্য চরিত্রে নয়, হয়তো অন্য কোনও চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হত তাকে।” টলিউড সুপারস্টারের এহেন মন্তব্যের পরই নেটপাড়ায় তুমুল হইচই শুরু হয়। শুভশ্রী অনুরাগীদের দাবি, ‘শুধুমাত্র প্রচারের জন্যই শুভশ্রীকে ব্যবহার করেছেন টলিউড সুপারস্টার!’ লাগাতার কটাক্ষের মুখেও পড়তে হচ্ছে দেবকে। এবার সেই প্রেক্ষিতেই নয়নদীপ রক্ষিতের সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
শুভশ্রীর মন্তব্য, “একজন সংবেদনশীল মানুষ কীভাবে এই ধরনের কথা বলে, আমার জানা নেই। আমার কোনওদিনই পার্শ্বচরিত্র করতে অসুবিধে নেই। আমি ‘সন্তান’ করেছি। আমার কাছে সিনেমার চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এরকম একটা অসম্মানজনক মন্তব্য, যেখানে তুমি একটা ছবির প্রচার করছো, একজন হিরোইনের সঙ্গে। আমি সত্যিই জানি না…।”
আবার কি দেশু জুটিকে ফিরে পাওয়া যাবে? প্রশ্নের উত্তরে শুভশ্রীর রসিক অথচ ব্যঙ্গাত্মক জবাব, “জানি না, মা হয়ে গিয়েছি, চেহারায় সেই সারল্য তো নেই।” দুই তারকার এহেন বিপরীতমুখী অবস্থান দেখে প্রশ্ন উঠেছে, ‘ধূমকেতু’র ব্যবসা ৩০ কোটি পার করাতে এটা পাবলিসিটি স্টান্ট নয় তো?