
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গরমকাল মানেই রসালো আমের মরশুম। পাকা আম খাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষই খোসা সরাসরি ফেলে দেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, আমের খোসাতেও রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খোসায় থাকে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান, যা শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। শুধু স্বাস্থ্যগুণই নয়, রান্নাঘরেও আমের খোসার ব্যবহার এখন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সামান্য কৌশল জানলেই এই ফেলে দেওয়া অংশ দিয়েই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও অভিনব কিছু পদ। জেনে নিন তেমনই কিছু পদের নমুনা।
১। গুজরাটি ঘরানায় আমের খোসা দিয়ে চমৎকার সবজি তৈরির চল রয়েছে। প্রেসার কুকারে খোসাগুলো সেদ্ধ করে নিয়ে ঘি, হিং ও মশলার ফোড়নে নাড়াচাড়া করলে দারুণ স্বাদের খাবার তৈরি করতে পারবেন। গরম রুটির সঙ্গে এই 'চিলকে কি সবজি' খেতে অপূর্ব লাগে।
২। আমের খোসা দিয়ে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু জ্যাম বা প্রিজার্ভ। খোসাগুলো জল, লেবুর রস এবং সামান্য দারুচিনি বা আদা দিয়ে ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে জেলির মতো টক-মিষ্টি মিশ্রণ। পাউরুটি বা প্যানকেকের ওপর এটি স্প্রেড হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
৩। খোসাগুলো রোদে শুকিয়ে বা ওভেনে ক্রিস্পি করে তা থেকে পাউডার বানিয়ে রাখা দিন। এই পাউডার যেকোনও তরকারি, ম্যারিনেশন কিংবা চাট ও স্ন্যাকসের ওপর ছড়িয়ে দিলে খাবারে আসবে এক অনন্য টক স্বাদ। আমচুর পাউডারের বিকল্প হিসেবেও এটি কাজ করে।

৪। ছোটবেলার সেই ক্যান্ডির কথা মনে আছে? আমের খোসা সেদ্ধ করে চিনির সিরায় ডুবিয়ে নিলেই চমৎকার ক্যান্ডি তৈরি হয়। এরপর ওপর থেকে গুঁড়ো চিনি ছড়িয়ে শুকিয়ে নিলে এটি দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ করা সম্ভব। বাচ্চাদের টিফিনে বা বিকেলের স্ন্যাকসে এটি বেশ জনপ্রিয় হতে পারে।
৫। আমের খোসা দিয়ে তৈরি চাটনি আপনার দুপুরের খাওয়ার স্বাদ দ্বিগুণ করে দিতে পারে। সরষে ফোড়ন, রসুন, কাঁচা লঙ্কা, গুড় ও তেঁতুলের মিশ্রণে খোসাগুলো কষিয়ে নিলেই তৈরি হবে চটপটে চাটনি। ভাত বা পরোটার সঙ্গে এই পদটি একবার খেলে বারবার খেতে চাইবেন।
৬। একটু অন্যরকম পরীক্ষা করতে চাইলে পরিষ্কার খোসাগুলো ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এই মিশ্রণটি সালাদ ড্রেসিং বা আচার তৈরির বেস হিসেবে দারুণ কাজ করে। এছাড়া চিনির সিরায় খোসা ফুটিয়ে তৈরি করতে পারেন ট্রপিক্যাল সিরাপ, যা মকটেল বা আইস টি-তে ব্যবহার করা যায়।
* তবে আমের খোসা ব্যবহারের আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা জরুরি। বাজার থেকে কেনা আমে অনেক সময় কীটনাশক বা রাসায়নিক দেওয়া থাকে। তাই ব্যবহারের আগে খোসাগুলো ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে পুষ্টির বদলে শরীরের কোনও ক্ষতি না হয়।
খাবারের অপচয় কমানোর পাশাপাশি পুষ্টিগুণে ভরপুর এই উপাদানকে কাজে লাগিয়ে সহজেই তৈরি করা যেতে পারে নতুন নতুন পদ। তাই এবার আম খাওয়ার পরে খোসা ফেলে না দিয়ে একটু অন্যভাবে ব্যবহার করেই দেখুন।
