
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বাতিল হওয়া নিট পরীক্ষার নতুন দিন ঘোষণা করেছে এনটিএ। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, এর পিছনে ‘সংগঠিত চক্র’ ও ‘শিক্ষা মাফিয়া’ জড়িত। বারবার প্রশ্নফাঁস ও পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে কেন্দ্র। তাঁদের দাবি, এতে পরীক্ষার্থীদের উপর বাড়ছে মানসিক ও শারীরিক চাপ।
গত ৩ মে দেশজুড়ে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা হয়। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের জেরে সেই পরীক্ষা বাতিল হয়। আগামী ২১ জুন নতুন করে নিট পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেকথা জানিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন একাধিক বিকল্প প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। ইতিমধ্যে উচ্চশিক্ষা দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে। ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষার রাজ্যের সংস্থাগুলির সঙ্গে সংযোগ রেখে তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি। শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, “রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করা সত্ত্বেও কমান্ড চেনে ত্রুটি ছিল। আমরা তা স্বীকার করছি এবং এটি উন্নত করার দায়িত্ব নিচ্ছি।”
২০২৪ সালের নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল, এদিন সেকথা উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জানা গিয়েছে, ওই কমিটি পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় সংস্কারের জন্য ৯৫টি সুপারিশ করেছিল, যদিও রহস্যময়ভাবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) কেই জড়িত নয় তো? এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “সিবিআই বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করবে। সিবিআই একটি নির্ভরযোগ্য সংস্থা এবং তারা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করবে।”
নিটের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর শুক্রবারই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যেসব মাফিয়া চক্র বারবার প্রশ্ন ফাঁস করছে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে। পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের সঙ্গে কোনভাবেই আপস করা হবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে ধর্মেন্দ্র বলেন, “রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করা সত্ত্বেও কমান্ড চেনে ত্রুটি ছিল। আমরা তা স্বীকার করছি এবং এটি উন্নত করার দায়িত্ব নিচ্ছি।” ইতিমধ্যেই প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিটের মতো কঠিন পরীক্ষা বারবার দেওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শামিল। তাই আগামী দিনে যেন প্রশ্ন ফাঁস একেবারে আটকে দেওয়া যায়, সেজন্য নিটের পরীক্ষা পদ্ধতি পুরোপুরি পালটে দেওয়া হবে। চলতি বছর পর্যন্ত পরীক্ষা হত খাতায় কলমে। ওএমআর শিটে পরীক্ষা দিত পড়ুয়ারা। আগামী ২১ জুন নিট পরীক্ষাও এই পদ্ধতিতেই নেওয়া হবে। কিন্তু পরের বছর থেকে পরীক্ষা পদ্ধতি পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে যাবে। কম্পিউটারে পরীক্ষা দেবে পড়ুয়ারা।
