
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বিরোধী বিধায়কদের চিঠিরও এবার জবাব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি বলেন, শুধু প্রাপ্তিস্বীকার নয়, সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেবে সরকার। এই প্রসঙ্গে অতীতের সরকারের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
শুক্রবার স্পিকার নির্বাচনের পর শুভেন্দু বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন। ‘হাউজ বিলংস টু অপজিশন’, মূল মন্ত্র হিসাবে ধরে আগামিদিনে বিধানসভার কার্যক্রম চলবে বলেই জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সংখ্যায় আপনারা কম হলেও, ৫০-৫০ ভাগ থেকে আমরা সরব না। আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও স্পিকার যেন বিরোধীদের বেশি করতে বলতে দেন, তা বলব। বিরোধীরা চাইলে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করবেন। যদি আপনাদের দল অনুমতি দেয়। মন্ত্রীদেরও বলব দেখা করতে চাইলে সময় দেবেন। প্রয়োজনে চিঠি পাঠাতে পারেন। আগে কোনও কোনও মন্ত্রী চিঠির উত্তর দিতেন না। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) থেকে তো প্রশ্নই ছিল না। তবে আমরা চিঠি দিলে নিশ্চয়ই উত্তর দেব। প্রাপ্তিস্বীকারও করা হবে। কিছুটা ইতিবাচক ফলাফলও পাবেন।” বিজেপিশাসিত বাকি ২১টি রাজ্য যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে সরকার চালাচ্ছে, সেভাবে বাংলাতেও সরকার চলবে বলেই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর।
এদিন শুভেন্দু আরও জানান, “আমরা চাই না বিরোধী দলনেতা ১১ মাস বিধানসভার বাইর থাকুন। কোনও বিধায়ক শারীরিক হেনস্তার শিকার হোন, আমরা চাই না। ভাষাপ্রয়োগে শালীনতা বজায় থাক। আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করতে চাই। আমরা সংবিধানকে মাথায় রেখে কাজ করতে চাই। বিধানসভায় সকলের প্রতিনিধিত্ব কাম্য। স্পিকার সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে চলবেন। তাঁর নির্দেশ আমরা মেনে চলব।” বলে রাখা ভালো, এর আগে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একাধিকবার বিধানসভায় শাস্তির খাঁড়া নেমে আসে শুভেন্দু অধিকারীর উপর।
শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনেও সেই প্রসঙ্গ তুললেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা খতিয়ে দেখে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেখানেও বেঁধে দিলেন শর্ত। সাফ জানালেন, একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও ঘরছাড়া কেউ থাকলে, তাকে সসম্মানে ফেরানো হবে ঘরে। বিরোধী দলনেতাকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসায় কেউ ঘরছাড়া বলে আমার জানা নেই। তবে যদি আপনার কথা মেনে নিই, সেক্ষেত্রে আপনি ডিজিপির কাছে নামের তালিকা পেশ করুন যে কারা ঘর ছাড়া।”
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন এক্ষেত্রে শর্ত হল, তালিকায় থাকা কেউ যদি একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত হন। তাঁর বিরুদ্ধে যদি এফআইআর করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তাঁকে ঘরে ফেরানো হবে না। গ্রেপ্তার করা হবে। অন্যথায় কেউ ঘরছাড়া থাকলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার নিজে গিয়ে পৌঁছে দেবেন ঘরে।
