
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রান্নাঘরে দুধ গরম করতে গিয়ে হঠাৎই দেখা যায় তার উপরিভাগে দানাদানা ভাব তৈরি হয়েছে। একটু পরেই বোঝা যায়, দুধ ছানা কেটে গিয়েছে। অনেকেই ভাবেন দুধ নষ্ট ছিল বলেই এমন হয়েছে। কিন্তু সব সময় তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে দুধ ফোটানোর সময় কিছু সাধারণ ভুলের কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়। ফলে স্বাদ যেমন নষ্ট হয়, তেমনই সেই দুধ আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি খাদ্য। সামান্য তাপমাত্রার গরমিল, নোংরা পাত্র বা ভুল সময়ে লবণ-টক জাতীয় কিছু মিশে গেলেই দুধের গঠন বদলে যেতে পারে। তাই দুধ ফোটানোর সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
১. ফুটন্ত দুধের উত্তাপ বাড়ান: ফ্রিজ থেকে বের করে ঠান্ডা দুধ কিছুক্ষণ রুম টেম্পারেচারে রাখুন। তারপর তা পাত্রে গরম করার সময়, পাত্রটি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে দিন। অনেকেই ঠান্ডা দুধ সরাসরি গরম পাত্রে ঢেলে দেন। তাপমাত্রা আচমকা পরিবর্তন হলে, দুধ ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। পাত্রে দেওয়ার পর দুধের স্তর ফুলতে শুরু করলেই দ্রুত আঁচ কমিয়ে দিন।
২. দুধ কতটা টাটকা, যাচাই করুন অবশ্যই: অনেক সময়েই একসঙ্গে একাধিক দুধের প্যাকেট বা বোতল কিনে আনেন গৃহস্থ। এক্ষেত্রে দুধ গরম করার আগে অবশ্যই তার এক্সপায়ারি ডেট লক্ষ্য করা উচিত। এক্সপায়ারি ডেটের কাছাকাছি এসে গেলে, দুধ ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গৃহস্থ ভাবতেই পারেন যে, ছানা কেটে যাওয়া দুধ দিয়ে ছানার কোপ্তা বানিয়ে ফেলবেন! কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়ে থাকলে, সে দুধ সেবনের একেবারেই অনুপযোগী।

৩. পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন: দুধ ফেটে যাওয়ার পিছনে পাত্রটির ভূমিকাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আঁচে বসানোর আগে দুধ গরম করার পাত্রটি পরিষ্কার কি-না, তা দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি আগেরবার ব্যবহারের সময় পাত্রে কোনও খাদ্যের পোড়া কণা রয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে পরেরবার তাতে যাই চাপানো হোক, দ্রুত পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া লেবুর বীজ বা অ্যাসিডিক উপাদান যদি রয়ে যায়, তবে দুধ ঢালা মাত্র ছানা কেটে যেতে পারে।
এছাড়াও বর্ষাকাল বা অতিরিক্ত গরমের সময় দুধ দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাজার থেকে আনার পর দীর্ঘক্ষণ বাইরে না রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফ্রিজে রাখা উচিত। সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই দুধ ছানা কেটে যাওয়ার মতো বিরক্তিকর সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি মিলতে পারে।
