
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের সূচনা হলো। নন্দীগ্রামের মায়া ত্যাগ করে শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতার প্রেস্টিজ ফাইট কেন্দ্র ভবানীপুরকেই বেছে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটের ফলাফলে তিনি দুই আসনেই জয়ী হন। নন্দীগ্রামে পবিত্র করকে পরাজিত করার পাশাপাশি ভবানীপুরেও জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
জয়ের পর শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই ঠিক করবে তিনি কোন কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে কাজ করবেন। অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ভবানীপুরকেই নিজের সংসদীয় ক্ষেত্র হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী দুটি আসনে জয়ী হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি আসন তাঁকে ছাড়তেই হয়। শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র নেতা হুমায়ুন কবীরও। রেজিনগর ও নওদা, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁকেও একটি পদ ছাড়তে হচ্ছে।
প্রথমেই শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। বিধানসভায় প্রবেশের পরেই বিআর আম্বেডকরের মূর্তিতে মালা দেন তিনি। এর পরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। বিধানসভা ভবনের ভিতরে ঢোকার আগে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু। ভিতরে ঢুকে পুজোও করেন তিনি। ফেসবুকে সে ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন নিজেই।
এ দিন বিধায়ক হিসেবে প্রথমেই শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। এর পরে একে একে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিকরা। শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।
সূত্রের খবর, এ দিন উত্তরের ৯ জেলা ও মুর্শিদাবাদের বিধায়করা শপথ নেবেন প্রথমার্ধে। অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টার মধ্যে শপথ নেবেন ৭৬ জন বিধায়ক। এর পরে দুপুর ২টো থেকে সাড়ে ৪টে অবধি শপথ নেওয়ার কথা আরও ৮০ জন বিধায়কের। নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়করা নেবেন এ দিন। আগামিকাল, বৃহস্পতিবার বাকি ১১ জেলার বিধায়করা শপথ নেবেন। সকলকেই শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।
