
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে বিজেপি সরকারের হাতে ক্ষমতা আসে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন কাঁথির শুভেন্দু অধিকারী। একসময় রাজনৈতিক সংঘাতের মুখোমুখি থাকা শুভেন্দুকে সোমবার শুভেচ্ছা জানান বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।তিনি বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও উপ-দলনেতা অসীমা পাত্রকেও শুভেচ্ছা জানান। তবে উপ-দলনেতা নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
একটা সময়ে একসঙ্গে কাজ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী ও কুণাল ঘোষ। ২০২০ সালে শুভেন্দু যোগ দেন বিজেপিতে। স্বাভাবিকভাবেই তারপর দূরত্ব বেড়েছে। বিরোধী দুই দলের দুই সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে একজন আরেকজনকে আক্রমণ করেছেন। একাধিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর আসনে। সোমবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন কুণাল ঘোষ। তবে সেখানেও বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট নিয়ে যা যা অভিযোগ তৃণমূল করেছে, তা উল্লেখ করেই কুণাল লিখলেন, ‘বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ভোটার তালিকা, ভোট মেশিন এবং গণনা লুঠ, এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দিষ্ট বক্তব্য আছে। তবে যেহেতু নতুন সরকার, নতুন মুখ্যমন্ত্রী, তাই শুভেচ্ছা থাকল।’
একই পোস্টে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের ডেপুটি লিডার অসীমা পাত্র, বিরোধী পক্ষের মুখ্যসচেতক ফিরহাদ হাকিমকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুণাল। তৃণমূলের তরফে ডেপুটি লিভার করা হয়েছে সুদীপ-জায়া নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শুভেচ্ছা বার্তায় নাম নেই নয়নার। এর নেপথ্যে পুরনো বিবাদ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। আসলে, ২০২৪ সালে একটি সংবাদমাধ্যমে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করেছিলেন কুণাল। সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্যায় বারবার টিকিটের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরক্ত করেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনার জল গড়িয়েছিল অনেকদূর। যদিও পরবর্তীতে কুণাল ঘোষকে দেখা গিয়েছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির চা-চক্রে। শোনা গিয়েছিল, মান-অভিমান মিটে গিয়েছে। কিন্তু এদিনের শুভেচ্ছা বার্তা নতুন করে বাড়িয়ে দিল জল্পনা।
