
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিজেপির সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দল যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তা স্পষ্ট করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সোমবার সকালে সল্টলেকে দলীয় কার্যালয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, সাধারণ মানুষের স্বার্থে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি কার্যকর করতে কড়া নজর রাখছে বিজেপি নেতৃত্ব।বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে। দলের সঙ্কল্পপত্র যাতে রূপায়িত হয়, তার জন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। এই সরকার বিজেপি সরকার হবে না। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার হবে।”
এদিন সকালে চিনার পার্কের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সকাল সাড়ে নটা নাগাদ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়ি যান। ফুলমালায় তাঁকে স্বাগত জানান স্থানীয়রা। এরপর শমীককে সঙ্গে নিয়ে একই গাড়িতে রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে যান শুভেন্দু। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেজে ওঠে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়। ফুল, বরণডালায় রাজ্য বিজেপি দপ্তরে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়। ২০৭টি পদ্মের মালায় তাঁকে বরণ করা হয়। কুলো হাতে শুভেন্দুকে অভ্যর্থনা জানান মহিলারা। এখানে একপ্রস্থ সাংগঠনিক বৈঠক সারেন শুভেন্দু।
এরপর সোজা নবান্নে পৌঁছন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর ১৪ তলায় নিজের দপ্তরে পৌঁছন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে নবান্নে পৌঁছে গিয়েছেন নবনির্বাচিত ৫ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, ক্ষুদিরাম টুডু, অশোক কীর্তনীয়া এবং নিশীথ প্রামাণিক। আজই নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক। জানা গিয়েছে, এদিন নবান্নে তিনটি প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। বৈঠক শেষেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, বাংলার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবালয় অর্থাৎ সিএমও-তে জুড়লেন দুই আইএএস আধিকারিক। সাতজন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিককেও নিয়োগ করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে।রাজ্যে সরকারের প্রশাসনিক দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের যুগ্মসচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছে দুই আইএএস আধিকারিককে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পি প্রমথ (আইএএস ২০১৯ ব্যাচ) ও নবনীত মিত্তল (আইএএস ২০২০ ব্যাচ)-কে যুগ্মসচিব পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রবিবার আরও সাতজন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। যাঁদের মধ্যে অনেকেই নন্দীগ্রামের ইআরও এবং আরও ছিলেন।শনিবার ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান শেষ হতে না হতেই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা হয়েছে। ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পরই সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিকেলেই তাঁর উপদেষ্টা পদে নাম ঘোষণা হল সুব্রত গুপ্তর। এছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সচিব হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক শান্তনু বালা। নতুন সরকার গঠনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রশাসনিক রদবদল যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। সরকার পরিচালনার টিম তৈরিতে নির্দিষ্ট দপ্তর থেকে আধিকারিক বাছাই অন্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
