
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:ফিরহাদ-কন্যার নিশানায় কি দলের ‘কর্পোরেট’ নীতি? তোলপাড় ঘাসফুল শিবির। ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত গৃহযুদ্ধ। দলীয় ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতেই ৫ নেতাকে শোকজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ফিরহাদ কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে অস্তিত্ব ঘাসফুলশিবিরে।
সামাজ মাধ্যমে ফিরহাদ কন্যা লেখেন, ‘মহাভারতের মহাযুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল দুর্যোধনের প্রতি ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধ প্রেম ও পক্ষপাতিত্ব। জনশ্রুতিমূলক কাহিনির ভিত্তিতে ভগবান রামচন্দ্রের পদক্ষেপের ফলেই রামরাজ্যের পতন শুরু হয়, যার ফলস্বরূপ অগ্নিপরীক্ষা সত্ত্বেও মা সীতাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। সুতরাং, কারও প্রতি নীতিহীন আনুগত্যে অন্ধ হবেন না।” প্রিয়দর্শিনী হাকিম আরও লেখেন, “চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।”তৃণমূলের বিপর্যয়ের কারন হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি স্বজনপোষণকেই দায়ী করতে চেয়েছেন প্রিয়দর্শিনী। পরিবারতন্ত্র নিয়ে আক্রমণ করতে গিয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম টেনে এনেছেন রামায়ণ ও মহাভারতের প্রসঙ্গ।
প্রসঙ্গত, ফিরহাদ হাকিম যে কোনওদিনই তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেকের বৃত্তে ছিলেন না, তা রাজনৈতিক মহলের সর্বজনীনবিদিত। দলের বয়সের উর্ধ্বসীমা নিয়ে অভিষেকের নির্দেশ নিয়ে সওয়াল করেছিলেন ‘বিদ্রোহী’ ববি। ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলার মানুষ তৃণমূলকে বাইরের দরজা দেখালেও কলকাতা বন্দর আসন থেকে বিজেপির রাকেশ সিংকে পরাজিত করে জয়লাভ করেছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ভোট পরবর্তী ক্ষোভ নিয়ে অস্তিত্বের আগুনে এবার ঘি ঢাললেন ফিরহাদ কন্যাও।

‘প্রাক্তন’ হয়েও নিজেকে ‘প্রাক্তন’ বলতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ‘টালবাহানা’র পর অবশেষে সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বায়ো বদলালেন মমতা। ফেসবুক, ইনস্টা, এক্স হ্যান্ডেলে বায়োতে তৃণমূল সুপ্রিমো লিখলেন, তিনি তিনবারের বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কোনওভাবেই ‘প্রাক্তন’ শব্দটি ব্যবহার করলেন না।
নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর তৃণমূল অভিযোগ তোলে, তারা হারেনি। হারানো হয়েছে। সেই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা। তিনি ইস্তফাও দেননি। রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেন। কিন্তু তারপরও মমতার বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বায়োতে লেখা ছিল, তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। আজ, শনিবার ব্রিগেড ময়দানে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পরই বদলে গেল বায়ো। মমতা লিখলেন তিনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘১৫, ১৬ ও ১৭তম বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন।’ তাঁর সব অ্যাকাউন্টে এই বায়ো আপডেট করা হয়েছে। তাহলে কি অবশেষে তিনি হার মেনে নিলেন?
১৫ বছর আগে, ২০১১ সালেও পালাবদল দেখেছে বাংলা। ৩৪ বছরের বামশাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার রাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছিল মানুষ। সেবার ভোটগণনার বিকেলে ফল বুঝতে পেরেই রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। মনে করা হয়েছিল সেই ঘটনারই পুুনরাবৃত্তি ঘটবে ২০২৬-এ।
মনে করা হয়েছিল, ফলাফল ঘোষণার দিন সোমবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। তবে তারপর দিনই মঙ্গলবার কালীঘাটের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সাংবাদিকের ইস্তফা সংক্রান্ত প্রশ্নে মমতা বললেন, “আমরা তো হারিনি। তাই লোকভবনে যাব না। চক্রান্ত করা হয়েছে। হারিনি, তাই ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন নেই।” এর পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ার বায়োতেও মুখ্যমন্ত্রী শব্দটি লেখা ছিল। তবে আজ, শনিবার শুভেন্দু-সহ ৬ জন বিজেপির মন্ত্রী শপথ নিতেই বদলে গেল তৃণমূলনেত্রীর বায়ো।
