
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টুটু বোসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকালে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একইভাবে শোকজ্ঞাপন করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
টুটুবাবু বেশ কিছুদিন ধরেই কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার সন্ধেয় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তাঁকে প্রথম থেকেই রাখা হয় ভেন্টিলেশনে। তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে যান সদ্য দায়িত্ব নেওয়া ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। খোঁজখবর নেন মোহনবাগানের প্রাণপুরুষের। হাসপাতালে যান সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবেও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও টুটুবাবুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোঁজ নেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য বিশেষ টিমও তৈরি হয়। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় আর বাঁচানো যায়নি টুটুবাবুকে। গভীর রাতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর পরিবারের তরফে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয় রাতেই।
বুধবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় টুটু বোসের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় লিখলেন, ‘বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সচিব, প্রাক্তন সাংসদ স্বপনসাধন বোসের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। তাঁর শোকাহত পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।’ সোশাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এদিন সকালেই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে। টুটুবাবু ছিলেন আপামর মোহনবাগানের অভিভাবক। ভারতীয় ক্লাব প্রশাসনের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। ১৯৯১ থেকে প্রায় ৩ দশক প্রত্যক্ষভাবে মোহনবাগান ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন টুটুবাবু। এই ৩ দশকে বহু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছেন। ময়দানের উপর দিয়ে, মোহনবাগান ক্লাবের উপর দিয়ে বহু ঝড় বয়ে গিয়েছে। প্রশাসক হিসাবে শুধু সেসব চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়াই নয়, মোহনবাগানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বস্তুত কলকাতা ময়দানে অজাতশত্রু যদি কেউ থেকে থাকেন, তাহলে তিনি টুটু বোস।
