
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তপ্ত দুপুরের রোদের ঝাঁঝে যখন শহরজুড়ে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, তখন একমাত্র স্বস্তির নাম হয়ে উঠছে টক দই। শরীর ঠান্ডা রাখা, হজম শক্তি ঠিক রাখা থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ—সব দিক থেকেই দইকে বলা যায় গরমকালের প্রাকৃতিক ওষুধ। কিন্তু প্রতিদিন সেই একই দই-চিনি বা নুন-লেবুর স্বাদে অনেকেরই মন ভরে না। জিভে চাই নতুন কিছু, একটু ভিন্ন স্বাদ, একটু আন্তর্জাতিক ছোঁয়া। এই চাহিদাকে মাথায় রেখেই আজকাল দইকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা দেশের জনপ্রিয় ও অভিনব রেসিপি। তেমনই আজকের প্রতিবেদনে রইল কয়েকটি বিদেশি স্বাদের চমকপ্রদ রেসিপি —
১। মাস্ত-ও-খিয়ার, ইরান: পারস্যের এই পদটি গরমে এক কথায় অনবদ্য। টক দইয়ের সঙ্গে কুচনো শসা, একমুঠো আখরোট আর কিসমিস মিশিয়ে তৈরি হয় এই খাবার। সঙ্গে থাকে সুগন্ধি শাকসবজি। মিষ্টি আর নোনতার এক অদ্ভুত ভারসাম্য থাকে পদটিতে। হালকা খিদে মেটাতে বা পুষ্টির প্রয়োজনে এটি মুখে দিলেই মিলবে আরাম। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য থাকবে অটুট।
২। বোরানি বাঞ্জন, আফগানিস্তান: স্বাদ এবং গন্ধে ভরপুর এই আফগান রেসিপি। প্রথমে টমেটো সস দিয়ে বেগুন ভালো করে ভেজে সাজিয়ে নিন। তার উপর ছড়িয়ে দিন রসুন মেশানো ঘন টক দই। তীব্র স্বাদের এই পদটি যেমন পুষ্টিকর, তেমনই সুস্বাদু। ভাতের সঙ্গেও এটি দারুণ জমে যায়।
৩। তারাতর, বুলগেরিয়া: এটি আসলে একটি ঠান্ডা স্যুপ। দইয়ের সঙ্গে শসা, রসুন আর ডিল শাকের মিশেলে তৈরি হয় এই সতেজ পানীয়। বুলগেরিয়ার মানুষ গরমে শরীর জুড়োতে এর উপরই ভরসা রাখেন। অত্যন্ত হালকা এই খাবারটি হজমেও সাহায্য করে।
৪। আয়রান আশি স্যুপ, তুরস্ক: তুরস্কের অন্যতম জনপ্রিয় পদ এটি। দইয়ের মধ্যে সেদ্ধ ছোলা আর দানাশস্য মিশিয়ে তৈরি হয় এই রিফ্রেশিং স্যুপ। ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করা হয় এটি। পুষ্টিগুণে ঠাসা এই স্যুপটি একবার খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে।
৫। মোর কুঝাম্বু, দক্ষিণ ভারত: বিদেশের পাশে পাল্লা দিতে তৈরি আমাদের দেশের তামিল পদটিও। নারকেল, হালকা মশলা আর টক দইয়ের মিশেলে তৈরি এই তরকারি অত্যন্ত উপাদেয়। সাধারণত চালকুমড়ো বা ঢেঁড়স দিয়ে এই রান্না করা হয়। গরম ভাতে হালকা টক স্বাদের এই পদটি শরীরে দেবে প্রশান্তি।
গরমের এই ক্লান্ত দুপুরে তাই এক বাটি সাধারণ দই নয়, বরং একটু বিদেশি স্টাইলের টুইস্ট থাকলে তা যেমন মন ভালো করবে, তেমনই শরীরকেও দেবে আরাম। দই এখন আর শুধু খাবার নয়, বরং হয়ে উঠছে স্বাদের এক নতুন অভিজ্ঞতা।
