kolkata

1 hour ago

Mamata Banerjee: ‘রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক’, ভোটের ফল নিয়ে আদালতের পথে মমতা, সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি

Mamata Banerjee
Mamata Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:ভোটের ফলপ্রকাশের পরদিনই জানিয়েছিলেন পদত্যাগ করবেন না তিনি। বুধবার একই অবস্থানে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে কালীঘাটে বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী। সাফ জানিয়ে দেন, “আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক।” নতুন সরকারের শপথের দিন দলীয় কার্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর নির্দেশও দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো ভোটের ফলাফল অনুযায়ী ছাব্বিশের ভোটে ২০৭ আসনে জয়ী বিজেপি। হেরে গিয়েছে তৃণমূল। অথচ ভোটের ফল মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনা রয়েছে তাঁর। এই প্রসঙ্গে মমতা আরও বলেন, “আদালতে আমি, চন্দ্রিমা আবার আদালতে প্র্যাকট্রিস করব। নানা মামলা যা হচ্ছে আমি, চন্দ্রিমা, বিপ্লব মিত্র, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই আইনজীবী হিসাবে দেখব।” এর আগে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সাধারণ মানুষের স্বার্থে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নিজে সওয়াল করেন মমতা।

এদিকে, এদিনের বৈঠকে দলের ‘দুঃসময়ে’ সকলকে আরও একজোট হয়ে চলার বার্তা দেন তৃণমূলনেত্রী। দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের মতে, এমন ভরাডুবির নেপথ্যে রয়েছে অন্তর্ঘাত। সেকথা মাথায় রেখে এদিন মমতা বলেন, “যে বা যারা অন্তর্ঘাত করছে তাদের নাম দিন।” দল যে ভিতর থেকে ভাঙছে, তার বোধহয় প্রাথমিক ইঙ্গিত পেয়েছেন মমতা। দলে ভাঙনের আশঙ্কা যে প্রবল মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশ করেছিলেন। তবে বরাবরের ‘লড়াকু’ নেত্রী আত্মবিশ্বাসী, একদিন না একদিন দল ঠিক ঘুরে দাঁড়াবেই। তাঁর কথায়, “আমিও একসময় একা ছিলাম। ঘুরে দাঁড়িয়েছি। দল ঘুরে দাঁড়াবেই।”

ভোটে বিপর্যয়ের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে সেসব এলাকায় যাবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসা হচ্ছে। যেখানে অভিযোগ নিচ্ছে না, সেখানে অনলাইনে অভিযোগ জানান।” আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনাচিন্তাও করছেন তিনি। অভিষেকের কথা অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল দেখবেন। আর অভিষেক অনুগত ‘সেনাপতি’র মতো থাকবেন তাঁর পাশেই।


 ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ছাব্বিশের নির্বাচনে ৮০ তে এসে ঠেকেছে তৃণমূলের দখলে থাকা আসন সংখ্যা। হবু বিধায়কদের শপথগ্রহণের আগেই আজ তৃণমূল দলনেত্রীর ডাকে বৈঠকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, এদিন কালীঘাটের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন অন্তত ৯ জয়ী প্রার্থী! তা নিয়েই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা।এদিনের বৈঠকে দলের ‘দুঃসময়ে’ সকলকে আরও একজোট হয়ে চলার বার্তা দেন তৃণমূলনেত্রী। দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের মধ্যে থেকে উঠে আসা ‘অন্তর্ঘাত’ প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “যে বা যারা অন্তর্ঘাত করছে তাদের নাম দিন।” দল যে ভিতর থেকে ভাঙছে, তার বোধহয় প্রাথমিক ইঙ্গিত পেয়েছেন মমতা। দলে ভাঙনের আশঙ্কা মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকেও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এদিকে বুধবার দলনেত্রীর ডাক এড়িয়ে বৈঠকে গরহাজির ছিলেন ৯ জয়ী প্রার্থী। সূত্রের খবর, তৃণমূলের হবু বিধায়কদের বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ার সাফাইও দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘ভোটে বিপর্যয়ের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটছে। দিকে দিকে পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত থাকার কারনেই তাঁরা বৈঠকে অনুপস্থিত।’ 

অন্যদিকে এদিন বৈঠক চলাকালীনই কলকাতা বন্দরের জয়ী প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের কনভয়ের গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। ববি হাকিমের কনভয়ের এই গাড়ি দিয়েছিল ডাইরেক্টর সিকিউরিটি। সেই গাড়িগুলিই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এতদিন ফিরহাদ হাকিম পুরো ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং মেয়র হিসেবে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন। মোট ৮ জন নিরাপত্তারক্ষী ও ২ জন পিএসও। তবে এখন তিনি মন্ত্রী থাকবেন না, তাই নিরাপত্তা কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে থাকা দুটি গাড়িও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এদিন।

ভোটের ফলপ্রকাশের পর মঙ্গলবার কালীঘাটে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ছাব্বিশের নির্বাচনে ৮০ তে এসে ঠেকেছে তৃণমূলের দখলে থাকা আসন সংখ্যা। হবু বিধায়কদের শপথগ্রহণের আগেই আজ তৃণমূল দলনেত্রীর ডাকে বৈঠকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, এদিন কালীঘাটের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন অন্তত ৯ জয়ী প্রার্থী! তা নিয়েই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে তার মাঝেই ঘটে অভাবনীয় কাণ্ড। সূত্রের খবর, এদিন বৈঠকের মাঝে মমতা অভিষেকের পরিশ্রম নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। ভোটের আগে ঠিক কীভাবে দলের জন্য কাজ করে গিয়েছেন তিনি তা নিয়ে কথা বলেন। এরপরই সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনের কথাও বলেন। সেই অনুযায়ী সকলেই উঠে দাঁড়ান। তালিকায় ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানেদের মতো বর্ষীয়ান নেতারাও।

এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। ইতিমধ্যে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং কোহিনুর মজুমদার ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। অভিষেকের ‘ব্যর্থতা’য় দলে এমন ভরাডুবি বলেই দাবি করা হয়। তারপরই দলের তরফে বিবৃতি জারিও করা হয়। অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনওপ্রকার সমালোচনা, ক্ষোভপ্রকাশ বরদাস্ত নয় বলেই বিবৃতি জারি করে জানানো হয়। আবার এদিকে, মমতার দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনের বার্তার পর স্বাভাবিকভাবেই স্পষ্ট যে এখনও অভিষেকের উপর পূর্ণ আস্থাশীল মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

You might also like!