
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ব্যস্ততার এই যুগে জিমে যাওয়ার জন্য আলাদা সময় বার করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। কিন্তু শরীর ও মন সুস্থ রাখা যে ভীষণ জরুরি, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে নিয়মিত প্রাণায়াম। সকালবেলায় অল্প সময় প্রাণায়াম করলে শরীরের উপর তার প্রভাব পড়ে দীর্ঘদিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণায়াম এমন এক ব্যায়াম পদ্ধতি যা সরাসরি ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। নিয়মিত অভ্যাসে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। হাঁপানি ও শ্বাসনালির নানা রোগ থেকেও রেহাই পাওয়া সম্ভব। শুধু তাই নয়, প্রাণায়াম অনিদ্রার সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে, ফলে ঘুম হয় গভীর ও শান্ত।
∆ সহজ প্রাণায়ামের কিছু পদ্ধতি-
১। কপালভাতি: আরামদায়ক কোনও একটি আসনের ভঙ্গিতে বসুন, তা পদ্মাসন, বজ্রাসন বা সুখাসনও হতে পারে। মাথা ও মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। দুই হাতকে জ্ঞান মুদ্রার (বুড়ো আঙুল ও তর্জনী জুড়ে হাতের তালুকে উপরের দিকে রাখতে হবে) ভঙ্গিতে রাখুন। স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে শ্বাস নিন। শ্বাস ছাড়ার সময় পেটের পেশির উপর চাপ দিতে হবে। দ্রুত শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। এই ভাবে দ্রুত লয়ে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে ১০-২০ বার। পাঁচ সেটে এই প্রাণায়াম নিয়মিত করলে সুফল পাওয়া যাবে।
২। ভ্রামরি প্রাণায়াম: ম্যাটের উপরে শিরদাঁড়া সোজা করে পা মুড়ে বসুন। মাথা ও ঘাড় টান টান রাখুন। দু’হাত থাকুক দুই হাঁটুর উপরে। এ বার মুখমণ্ডলের দিকে খেয়াল করুন। ঠোঁট যেন বন্ধ থাকে, কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে রাখবেন না। কনুই ভাঁজ করে হাত কানের কাছে আনুন। মধ্যমা কিংবা মাঝের আঙুল দিয়ে কান বন্ধ করুন। এ বার নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ার সময় গলা থেকে মৌমাছির মতো গুনগুন শব্দ করুন। মুখ খুলবেন না, শব্দ বার হবে গলা থেকে। যত ক্ষণ পারবেন, শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ধীরে ধীরে গুনগুন শব্দ করবেন।
৩। ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম: পিঠ সোজা রেখে বসুন। এ বার গভীর ভাবে শ্বাস টানুন। কিছু ক্ষণ ধরে রেখে শ্বাস ছেড়ে দিন। প্রতি ক্ষেত্রে যতটা শ্বাস নেবেন, ততটাই ছাড়তে হবে। তিন থেকে ছ’মিনিট এই প্রাণায়ামটি করা উচিত। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, সাইনাসের সমস্যা থাকলে এই প্রাণায়াম দারুণ উপকারী।
৪। অনুলোম-বিলোম: অনুলোমের ক্ষেত্রে এক দিকের নাক বন্ধ থাকবে। প্রথমে ডান দিকের নাকের ছিদ্র চেপে ধরে, বাঁ দিক দিয়ে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার কাজ করতে হবে। পরে বাঁ দিকের নাকের ছিদ্র চেপে ধরে, ডান দিক দিয়ে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। এই প্রাণায়ামে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হবে হবে তিন ধাপে।
বিলোমের বেলায় দুই নাসারন্ধ্র দিয়েই একসঙ্গে শ্বাস টানতে হবে। প্রথমে কিছুটা শ্বাস নিয়ে দু’সেকেন্ড থামতে হবে। আবার শ্বাস নিতে হবে। ফের দু’সেকেন্ড থেমে শেষ ধাপে পুরো শ্বাস নিতে হবে। ছাড়তেও হবে একই পদ্ধতিতে থেমে থেমে তিন ধাপে।
