
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বঙ্গ বিধানসভায় ভোট অন অ্যাকাউন্ট বা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাতা ও বেতন সংক্রান্ত। অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ১ এপ্রিল থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ চার শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ফলে এতদিন ১৮ শতাংশে থাকা ডিএ বেড়ে দাঁড়ালো ২২ শতাংশে। এই ঘোষণার ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মাসিক বেতনের পরিমাণ একধাক্কায় কিছুটা বাড়বে। বিশেষ করে ভোটের আগে এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ’র মধ্যে পার্থক্য এখনও রয়ে গেছে। বাজেট ঘোষণার আগে পর্যন্ত এই ফারাক ছিল ৪০ শতাংশ। নতুন ডিএ বৃদ্ধির পর তা কমে দাঁড়াল ৩৬ শতাংশে। অর্থাৎ ভোটের আগে সরকারি কর্মীদের স্বার্থে কিছুটা ছাড় মিলেছে।
অন্তর্বর্তী বাজেটে আরও ঘোষণা এসেছে, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন গঠনের। রাজ্যের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশের কার্যকাল ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মীদের চাহিদা এবং স্বার্থের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সংবেদনশীল। নতুন কমিশন সরকারি কর্মীদের বেতন ও সুবিধার পুনর্মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ রাজ্যকে অবিলম্বে মেটাতে হবে। ডিএ পরিবর্তনশীল হওয়ায় ৬ মার্চের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বাকি বকেয়ার কতটুকু পরিমাণ দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তির টাকা ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে এবং মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শেষতম বাজেট অধিবেশনে সরকারি কর্মীদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে ডিএ বৃদ্ধি ও সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী ষষ্ঠ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পর কর্মীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “সরকার সরকারি কর্মীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রস্তুত করেছে। ডিএ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন পে কমিশন গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও সুবিন্যস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।” রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে ভোটের আগে সরকারি কর্মীদের আস্থা ও মনোবল আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ডিএ বৃদ্ধির সঙ্গে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রম নেওয়া হবে। ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা আশা করছেন আগামী দিনে তাঁদের অর্থনৈতিক স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে।
