
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটমুখী বাংলার শেষ বাজেটে (অন্তর্বর্তী বাজেট ২০২৬) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী ঘোষণা করেছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় এই বাজেট পেশ করার সময় মূলত সামনের সারির কর্মীদের (Frontline Workers) আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।সম্প্রতি আট দফা দাবিতে পথে নেমেছিলেন আশাকর্মীরা। তা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল তিলোত্তমা। অন্তর্বর্তী বাজেটে সেই আশাকর্মীদের জন্য একগুচ্ছ উপহার রাজ্যের। আশাকর্মীদের মাসিকভাতা বাড়ছে ১০০০ হাজার টাকা। ফলে তাঁদের মাসিক ভাতা বেড়ে হল ৬ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে তাঁরা মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন ১৮০ দিন। কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করবে সরকার। সিভিক ভলান্টিয়ার, পার্শ্বশিক্ষকদের জন্যও বড় ঘোষণা বাজেটে। তাঁদেরও ভাতা বাড়ানো হচ্ছে ১০০০ টাকা। সিভিক ভলান্টিয়ারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা।
এখানেই শেষ নয়। ভোটের আগে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের ভাতাও ১০০০ টাকা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী বাজেটে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়কদের মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দ মোট ২৮০ কোটি টাকা। ভোটের আগে ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করল রাজ্য সরকার। বাজেটে খুশি আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার ও পার্শ্বশিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা।
এপ্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আশা কর্মী এবং চুক্তিভিত্তিক ঠিককর্মী, পার্শ্বশিক্ষকরা সম কাজে সমবেতন পান না। সংসার প্রতি পালনের জন্য নূন্যতম আর্থিক সুরক্ষা যা রাজ্য সরকারের দেওয়া উচিত, সেটা তারা দেন না। তাই আজকে লক্ষাধিক সিভিক ভলান্টিয়ার, কয়েক হাজার আশা কর্মী, কয়েক হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা করে বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তা এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর করা অসম্ভব। নির্বাচনকে মাথায় রেখে, জিততেই এই ধরণের বাজেট করা হয়েছে।”
