
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা হোক বা রাজ্যের যেকোনও প্রান্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আনন্দপুরের নাজিরাবাদের অগ্নিদগ্ধ কারখানা চত্বরে বহু মানুষের মৃত্যুর পরও তিনি যাননি। এই নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্পষ্ট ব্যাখা জানালেন।
তিনি বলেন, “ওইদিন ২৬ জানুয়ারি ছিল। আগে থেকেই অনেক কর্মসূচি থাকে। সারাদিন ব্যস্ততা থাকে। সবাই জানেন। রাতে রাজ্যপালের ওখানে কর্মসূচি থাকে। আমি না গেলেও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে স্থানীয় বিধায়ক এবং অন্যরা গিয়েছেন। পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “শুনুন আমাদের নিন্দা করে কিছু হবে না। বাংলা হিরো ছিল হিরোই থাকবে। বাংলার মানুষ আপনাদের ধিক্কার জানায়।” ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “কথায় কথায় ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলেন তার হাল দেখুন। আর আমরা আর্থিক বঞ্চনার পরেও কি কাজ করছি সেটা দেখুন। এক টাকাও কোন প্রকল্পে দেন না আবার বড় বড় কথা বলেন।” বিরোধীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “বিরোধীদের শুভেচ্ছা জানাই। সবাই ভালো থাকবেন এবং এটাও জেনে রাখবেন আগামী ভোটে অনেক আসন হারাবেন আপনারা।”
উল্লেখযোগ্য, ২৫ জানুয়ারি আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অবস্থিত কারখানা ও গুদামে কর্মীদের আনাগোনা ছিল। রাতের অন্ধকারে আচমকাই লেলিহান শিখা গ্রাস করে পুরো কারখানা ও গুদাম। ভিতরে আটকে পড়েন কর্মীরা। পরবর্তীতে মোট ২৭ জন কর্মীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিখ্যাত মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থা সরাসরি দায় এড়াতে পারিনি। ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর সংস্থার তরফ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা জানায়, পাশের গুদামের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং সংস্থার তিনজন নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে তারা দাঁড়িয়েছে।
