Indranil Sen Case: গ্রেপ্তারির পর আগাম জামিনের আবেদন কেন? ইন্দ্রনীলকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

Former Bengal minister Indranil Sen
Former Bengal minister Indranil Sen

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  গ্রেপ্তারির পরেও সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদনের দ্রুত শুনানি চেয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তবে আদালতের আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেন তিনি। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, বুধবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর দু’দিনের মাথায় আগাম জামিনের আবেদনের আর কী প্রাসঙ্গিকতা থাকতে পারে? কারণ, গ্রেপ্তারির পর আগাম জামিনের আবেদন কার্যত অর্থহীন হয়ে যায়। পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেয় আদালত। প্রয়োজনে আগাম জামিনের পরিবর্তে নিয়মিত জামিনের আবেদন করার কথাও জানানো হয়। বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণের পরই দ্রুত শুনানির আর্জি-সহ আগাম জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

বলে রাখা ভালো, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ইউনেসকোর নাম ও লোগো ভাঁড়িয়ে পুজোর পাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে গোয়েন্দারা জেনেছেন, পুজোর পাস বিক্রি ছাড়াও টুরিস্ট লজ সংস্কার, বইমেলা, গানমেলা চলচ্চিত্র উৎসবের কর্মসূচির সরকারি টেন্ডার বেআইনিভাবে ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি কাটমানি নিয়ে নিজের ও আত্মীয়দের সংস্থার মাধ্যমে নানা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন তিনি। মন্ত্রিত্বের সুবাদে মমতার ছায়াসঙ্গী এই মন্ত্রী নিজের ঘনিষ্ঠ নানা সংস্থাকে টেন্ডারের বরাত দিতেন। কোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দুর্নীতি চক্রে যুক্ত তিনজনের গোপন জবানবন্দি নিয়েছে। বিশাল অঙ্কের এই দুর্নীতির রহস্য উন্মোচনে ইন্দ্রনীলের ১২ দিনের হেফাজত চায় পুলিশ। বিচারক প্রাক্তন মন্ত্রীকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। 

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ মাস আর্ট সোসাইটি, গিডি ক্রিয়েশন, থার্ড আই ক্রিয়েশন ছাড়াও রূপকার সংস্থা টেন্ডার পেত। মেলা-উৎসবের স্টল, ইভেন্টের টেন্ডারের বরাত পেত গিডি ক্রিয়েশন। একটি পর্বে ৫৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার টেন্ডার পায় জিডি। ৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা গিয়েছে থার্ড আই ক্রিয়েশনে। যদিও নিয়ম মেনে এই সংস্থার ইভেন্ট করার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। অন্য দু’টি সংস্থাকে পৃথক খাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার টেন্ডার দেন তিনি। থার্ড আই ক্রিয়েশন টেন্ডার পায় ৩৬ কোটি ৯ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা। গিডি থেকে সরাসরি ইন্দ্রনীলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

রূপকার নামের সংস্থা পায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার টাকার টেন্ডার। বরাতের বিনিময়ে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী ও মেয়ের অ্যাকাউন্টে কাটমানির টাকা গিয়েছে, অভিযোগ। গিডি থেকে ৪.৫ লাখ ও থার্ড আইয়ের ৬৬ লাখ টাকা গিয়েছে মাস আর্টে। আবার গার্ড আই থেকে ২২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা গিয়েছে ইন্দ্রনীলের মেয়ের অ্যাকাউন্টে। ২০টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। টেন্ডারের আরও বিপুল কাটমানির লেনদেনের তথ্য আগামীতে জানা যাবে বলে আদালতে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। 

শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…