
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ মানেই ভালোবাসার নানা রঙে মোড়া সাতটি বিশেষ দিন। গোলাপের সুবাস, মনের কথা প্রকাশ আর চকোলেটের মিষ্টতার পর আসে, ১০ই ফেব্রুয়ারি, প্রেমের উৎসবে এক অন্যরকম আবেশ—‘টেডি ডে’। এই দিনটি মূলত সারল্য, যত্ন আর নিরাপত্তার প্রতীক। প্রিয় মানুষের হাতে একটি নরম টেডি বিয়ার তুলে দিয়ে ভালোবাসার পাশাপাশি ভরসা আর স্নেহের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দিন এটি।
আপনি কি জানেন, ‘টেডি’ নামটির উৎস কোনও কল্পকাহিনি নয়? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টের এক মানবিক ঘটনার কথা। ১৯০২ সালে শিকারে গিয়ে তিনি একটি আহত ভালুক ছানাকে হত্যা করতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেই কাহিনি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে আমেরিকার এক ব্যবসায়ী দম্পতি খেলনা ভালুক তৈরি করেন এবং রুজভেল্টের ডাকনাম অনুসারে তার নাম দেন ‘টেডি বিয়ার’। ধীরে ধীরে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে এই টেডি বিয়ার বিশ্বজুড়ে কোমলতা ও স্নেহের প্রতীকে পরিণত হয় এবং পরে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে ‘টেডি ডে’-র প্রচলন ঘটে।

∆ বর্তমান সময়ে উপহার দেওয়া টেডি বিয়ারের রঙের গুরুত্বও কিন্তু কম নয়। সম্পর্কের অবস্থা অনুযায়ী অনেকেই বেছে নেন আলাদা আলাদা রঙ:
লাল টেডি: গভীর ভালোবাসা ও রোমান্সের প্রতীক।
গোলাপী টেডি: পছন্দ বা ভালো লাগা প্রকাশের মাধ্যম।
সাদা টেডি: পবিত্রতা ও নতুন শুরুর ইঙ্গিত।
নীল টেডি: সম্পর্কের গভীরতা ও স্থায়িত্বের সংকেত।
মনোবিদদের মতে, টেডি বিয়ার হল এমন একটি উপহার যা একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করে এবং প্রিয় মানুষের শারীরিক অনুপস্থিতিতেও তাঁর অস্তিত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই এই আধুনিক ডিজিটাল যুগেও একটি সাধারণ তুলতুলে খেলনা আজও প্রেমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হয়ে রয়ে গেছে। প্রিয়জনকে আগলে রাখার অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হোক এবারের টেডি ডে।
