
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পাড়াতেও এবার দেখা গেল ‘গদ্দার’ পোস্টার। বৃহস্পতিবার দুপুরে চেতলায় তাঁর বাড়ির কাছেই বিশাল আকারের ওই পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কে বা কারা পোস্টারটি লাগিয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। পোস্টারে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নাম উল্লেখ থাকলেও সংগঠনের একাংশ এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এমন পোস্টার লাগিয়েছে, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিরহাদ হাকিমের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ছাব্বিশের ভোটে নিজের কেন্দ্র কলকাতা বন্দর থেকে কষ্টার্জিত জয় পেয়ে ফের বিধায়ক হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে একাধিক দপ্তরের মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দু’ধাপে কলকাতা পুরসভায় মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর অন্যতম বড় ভরসার ব্যক্তিত্ব ছিলেন ফিরহাদ। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদলের পর তিনি ও ষাটের বেশি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মমতা শিবিরের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বেরিয়ে যান। মমতা ঘনিষ্ঠ ফিরহাদের এহেন ভোলবদলে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। প্রশ্ন উঠেছিল তাঁর সততা, আনুগত্য নিয়ে। তবে এই মুহূর্তে ফিরহাদ নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না। ঘনিষ্ঠ মহলে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসন্ন পুরভোটে তিনি আর প্রার্থী হবেন না। বিধায়ক হিসেবে মেয়াদ শেষের পর আর রাজনীতিতেও থাকতে চান না।
এসবের পর বৃহস্পতিবার ফিরহাদের বাড়ির অদূরে, নিজের পাড়া চেতলার ৮২ নং ওয়ার্ডে ‘গদ্দার’ পোস্টার পড়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টারে লেখা – ‘নিজের জামাই ও নিজের মেয়ের বেলায় কোন ফর্মুলায়, রক্ত না ভক্ত?’ নিচে ৮২ নং ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নাম থাকলেও তাদের একাংশ বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। উলটে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এমন কাজ কোনওভাবেই তাদের কারও নয়। বরং তাদের নামে দোষ চাপিয়ে কে বা কারা এই পোস্টার দিল, সেটা অনুসন্ধান করে দেখা হোক বলে দাবি। এনিয়ে প্রাক্তন মেয়রের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলে তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম জানিয়েছেন, বাবার বিরুদ্ধে ‘গদ্দার’ পোস্টার দুর্ভাগ্যজনক।
