By-Election MLA's Oath: উপনির্বাচনে জয়ের পর বিধায়ক পদে শপথ, হাসিরানি ও শাখারভকে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

Nandigram and Rejinagar MLA's Oath
Nandigram and Rejinagar MLA's Oath

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে আসা নন্দীগ্রাম আসনে জয়ী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শাখারভ সরকার বিধানসভায় শপথ নিলেন। উপনির্বাচনে জয়ী এই দুই বিধায়ককে শপথবাক্য পাঠ করান বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। তাঁদের শপথগ্রহণের পর বিধানসভায় বিজেপির আসনসংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২০৯-এ। পুজোর পর বিধানসভায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীও। দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, বিধানসভার নতুন সদস্য হিসেবে হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকারকে অভিনন্দন জানানোর সঙ্গে বিজয়ার শুভেচ্ছাবার্তাও দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। 

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ফের বিজেপিকে ‘সংখ্যালঘু-বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার ব্যাখ্যা নস্যাৎ করে শুভেন্দু দাবি করেন, “অনেকেই বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক পার্টি বলে রাজনীতি করে খেয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে বলছি, রেজিনগরে ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় উপকৃত, তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার মহিলাই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। আমরা হিন্দু, সনাতনী, কপালে টিকা ধারণ করি। কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেয় বিজেপি। রেজিনগরে ৩০০-এর মধ্যে ২০০ টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথ। সেই রেজিনগরে ৭৫ হাজার মার্জিনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের জয়।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “৬ মাসের মধ্যেই সরকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে এগোচ্ছে সেটা স্পষ্ট। এই ৬ মাসে যা দেখছেন, তা চা-বিস্কুটের সমান। এখনও ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ বাকি। দেখতে থাকুন কীভাবে উন্নয়ন হয়।” 

রেজিনগেরর পাশাপাশি নন্দীগ্রামের জয়ী প্রার্থী হাসিরানি রথকে অভিনন্দন জানিয়ে এদিন শুভেন্দু ফের নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে আসার ব্যাখ্যা দেন বিধানসভাতেই। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের আসন ছেড়ে আসায় সেখানকার অনেকেই আমার উপর অভিমান করেছিলেন, তাদের আমি বুঝিয়ে এসেছি। আজ আবারও বলছি, আমি ভবানীপুর ছাড়লে এর আগে যাঁকে দু’বার হারিয়েছি, তিনি আবার ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। সেই সুযোগ না দেওয়াই ভালো। অনেক বয়স হয়েছে, এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার কথা। তাই নন্দীগ্রাম ছাড়তে হয়েছিল আমাকে, ওই আসনে ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটে হাসিরানি রথকে জিতিয়ে পাঠিয়েছেন নন্দীগ্রামের মানুষ। আমি আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করব হাসিরানি রথের মাধ্যমে।” ছাব্বিশের নির্বাচনের দিন কয়েকের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “আমার সহযোগী হওয়ার অপরাখে চন্দ্রনাথকে খুন করা হল। শুটার, সুপারি কিলার সহ সিবিআই ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। বাকি আছে সুপারির ২ কোটি কোথা থেকে এসেছিল, সেটা জানা। ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট, না ডায়মন্ড হারবার? এটা জানতে পারলেই তদন্তের বৃত্ত সম্পন্ন হবে।”  

এদিন ফলতার উপনির্বাচন বিজেপি ঐতিহাসিক জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, “১৫ বছর শাসনে থাকা দলের প্রার্থী ঝুকেগা নেহি শুয়ে পড়েছিল ভোটে, জামানত জব্দ হয়েছিল। বর্তমান সরকারের সময় ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে বিজেপির প্রতীকে দেবাংশু পণ্ডা নির্বাচিত হয়েছেন বিধায়ক হিসেবে। নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে মাঝপথে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। রেজিনগরের প্রার্থী ৬০০০ ভোটে সীমাবদ্ধ থেকে গেছেন।” বিগত সরকারের আমলে ভোটে অশান্তির প্রসঙ্গে টেনে শুভেন্দুর খোঁচা, “তৃণমূল এখন তিনভাগে বিভক্ত। তৃণমূলের সময়কালে যত ভোট হয়েছে, টিভি মিডিয়াতে যে ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে, তিনটি উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে একটাও ঘটনা ঘটেনি মিডিয়ায় প্রচারের মতো। এটাই পরিবর্তনের বাংলা। যে সংখ্যালঘুদের বিজেপির থেকে দূরে সরানো হত, তারাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে রজিনগরে। রেজিনগরে চকলেট ভেবে বোমা তুলে প্রাণ যায় জসমিনার। তার বাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রিলিভি ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়ে এসেছি।” সেই সঙ্গে বিরোধী দলনেতার নথি চুরির যে অভিযোগ সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রকাশ্যে এনেছিলেন, সেই কথাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করলে, তার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেবেন বলে ইঙ্গিত দেন শুভেন্দু। পাশাপাশি চোরবাগান তাণ্ডের সমবেদনা জানিয়ে আগামী ৩ মাসের মধ্যে সিটের পেশ করা রিপোর্ট বিধানসভায় প্রকাশ করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মণ্ডপ বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না বলে এদিন ফের হুঙ্কার শানান তিনি। 

শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…