
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মঙ্গলবার রাজ্যে পরপর দুটি এনকাউন্টারের ঘটনা সামনে এল। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার পর মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানেও গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে এক অভিযুক্তের। এই ঘটনাগুলি নিয়ে মুখ খুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। তাঁর কথায়, “রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।” পুলিশের দাবি, দুই ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা প্রথমে তদন্তকারীদের উপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পালটা গুলি চালায় পুলিশ, তাতেই মৃত্যু হয় দু’জনের। এ দিন ফের একবার পুলিশকে দুটি বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক কোন দুটি বিষয়ে পুলিশকে এই ছাড় দিয়েছেন তিনি, তার ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই রাজ্যে জোড়া এনকাউন্টার নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, দুটি বিষয়ে পুলিশকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। নেশামুক্তি ও মহিলাদের উপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারবে। দুই ক্ষেত্রেই পুলিশ আধিকারিকরা কোনও সমস্যায় পড়লে পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজে ঢাল হয়ে দাঁড়াবেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গকে গুন্ডামুক্ত করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের বেশিরভাগ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। গুন্ডাদের পালানোর কোনও জায়গা নেই। আইন অনুযায়ী গুন্ডাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চোরবাগান ঘটনা নিয়ে মিথ্যা প্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি সমালোচনার বিরুদ্ধে নন, সেকথাও স্পষ্ট করে দেন। শুভেন্দু জানান, চোরবাগানের ঘটনা স্বীকার করতে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। অপ্রীতিকর ঘটনার এড়াতে কোনও পরামর্শ থাকলে সেসবও শোনা হবে। কিন্তু চোরবাগানের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ভুল প্রচার করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। কাউকে ছাড়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তকে প্রথমে এনকাউন্টার করে পুলিশ। পরে বিকেলে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি নেতা খুনের আসামিকে এনকাউন্টারে খতম করা হয়। এর আগে বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন মামলাতেও মূল অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করেছিল পুলিশ। এই নিয়ে গত তিন মাসে রাজ্যে তিনবার এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল। যদিও প্রতি ক্ষেত্রেই দাবি উঠেছে, অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করছিল। পুলিশ ও তদন্তকারীদের উপর আক্রমণও করে। পালটা হিসেবে গুলি চালায় পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেউ আইন হাতে তুলে নিলে পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখতে পারে না।
