
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনাকে কোনওভাবেই ‘ছোট ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যেতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্রের তকমা দিতেও রাজি নন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, এই ঘটনায় যাঁরই দায় থাকুক না কেন, কাউকে আড়াল করবে না সরকার। ভবিষ্যতে দুর্গাপুজো-সহ সমস্ত উৎসব ও বড় জমায়েত যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শও চেয়েছেন তিনি। তদন্ত কমিটির সুপারিশ কার্যকর করে আগামী দিনে উৎসবের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগের সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এবার কাউকে পুজো করার জন্য হাই কোর্টে যেতে হয়নি। শুভেন্দুর অভিযোগ, আগে নির্দিষ্ট সময়ে মাইক বাজানো যেত না, আগে বলা হত নির্দিষ্ট রুট দিয়ে বিসর্জন হবে না। এর জন্য কোনও সম্প্রদায়কে দায়ী করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার মাথা নত করেছিল। বিগত সরকারের ব্যর্থতাতেই এসব ঘটনা ঘটত। তাঁর কথায়, “ধর্ম যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্ব তার, মানুষ এটা বুঝেছে।” শুভেন্দু জানান, চোরবাগান থেকে শিক্ষা নিয়ে ছট, জগদ্ধাত্রী, কার্তিক পুজোয় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুজো কমিটি ও প্রশাসনকে আগাম সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি।
চোরবাগানের ঘটনার পর আহত ২৫ জনকে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেই বিতর্কের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইগো দেখিয়ে কাউকে সরকারি হাসপাতালে আটকে রাখা হয়নি। প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সবাইকে বাড়িতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, “এখানে ব্যর্থতার কিছু নেই। এখানে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার তুলনায় প্রাইভেট হাসপাতালের পরিষেবা ভালো। ইগো, অহংকার দেখিয়ে, হাম কিসি সে কম নেহি বলে সরকারি হাসপাতালে আটকে রাখিনি।” উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক অপরাধমূলক ঘটনা বা দুর্ঘটনাকে ছোট ঘটনা, ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার মতো এই সব শব্দবন্ধ দিয়ে চোরবাগানের ঘটনাকে দাগিয়ে দিতে চান না শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ। দায়ী কাউকে আড়াল করবে না সরকার।”
