
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ধ*র্ষ*ণ ও খু*নে*র অভিযোগে অভিযুক্তের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের বারুইপুরের পর উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটাতেও একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে। গাইঘাটায় নাবালিকা ধ*র্ষ*ণ ও খু*নে*র ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আর জি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য, মেয়ের অপরাধীদের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি হওয়া উচিত। তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গাইঘাটায় অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় সে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশি পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে কর্তব্যরত অবস্থায় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার হয় তরুণী গবেষক-চিকিৎসকের দেহ। তাঁকে ধ*র্ষ*ণে*র পর খুন করা হয়। এই ঘটনার জল গড়িয়েছিল বহু দূর। সিবিআই তদন্তের পর সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে নির্যাতিতার পরিবার পরে তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করায় মামলা রি-ওপেন হয়। এখন সিবিআই আর জি কর কাণ্ডের পুনর্তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে মেয়ের প্রতি হওয়া নৃশংসতার বিরুদ্ধে লড়ে ন্যায়বিচার পেতে রাজনীতিতে এসেছেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তিনি এখন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। ধর্ষণের ঘটনায় এনকাউন্টারের পক্ষেই সওয়াল করলেন বিধায়ক।
মঙ্গলবার গাইঘাটায় ধ*র্ষ*ণ-খু*নে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস পুলিশের এনকাউন্টারে নিকেশের খবর শুনে রত্নাদেবীর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আগেকার সরকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। বর্তমান সরকার বিচারের রাস্তা তৈরি করছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করে, তাদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কী? এনকাউন্টারই এদের জন্য ঠিক। আমি চাই, আমার মেয়ের অপরাধীদেরও এই পরিণতি হোক। যত এরকম হবে, তত ওরা ভয় পাবে।” এর আগে বারুইপুরের ঘটনায় অভিযুক্তকে এনকাউন্টার নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি রত্নাদেবী। উলটে ওই মেয়েটির পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের মেয়ের শ্রেণিগত অবস্থানের ফারাক করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু গাইঘাটা নিয়ে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে কি আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়েছেন অভয়ার মা? এই প্রশ্নও উঠছে।
