
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: টলিউডের পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষযাত্রায় আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কেওড়াতলা মহাশ্মশান। শোকের ভার সামলে বাবার মুখাগ্নি করল তাঁর কিশোর পুত্র সহজ। সেই সময় ছেলের কাঁপা হাত শক্ত করে ধরে পাশে ছিলেন মা প্রিয়াঙ্কা সরকার।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে রাহুলের হাত ধরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সাত পাক ঘুরে রাহুলের পরিণীতা হন। কেরিয়ার ভুলে মন দেন সংসারে। এরপর জীবনে অনেকটা পথ পার করেছেন। তাঁদের দাম্পত্যে চড়াই-উতরাই এসেছে। এমনকি একসময় আলাদা থেকেছেন দু’জন। তবে সম্পর্কের বন্ধন ছিন্ন হয়নি পুরোপুরি। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আবার কাছাকাছি এসেছিলেন তাঁরা, ফিরিয়ে নিয়েছিলেন ডিভোর্সের সিদ্ধান্তও।

Rahul Arunoday Banerjee and Priyanka Sarkar’s their son Sahaj
মাত্র ১৩ বছর বয়সেই পিতৃহারা সহজ। গত কয়েকঘণ্টায় তাঁর জীবনটা কঠিন হয়ে গিয়েছে অনেকটা। বাবাকে হারানোর শোকে দিকবিদিক শূন্য সে। কেঁদেই চলেছেন রাহুলের মা। কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই তাঁর। এমন সময় স্বামী হারানোর শোক বুকে চেপে নিজের সন্তানকে আগলাতে ব্যস্ত প্রিয়াঙ্কা। এদিন শ্মশানে প্রিয়াঙ্কাকে দৃঢ় থাকতে দেখা গেলেও, সেই দৃশ্য নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেন প্রিয়াঙ্কার চোখে জল নেই? কেন পরিপাটি করে আঁচড়ানো তাঁর চুল? সাদা পোশাক পরার কথা কীভাবে স্মরণে থাকল তাঁর, সেইসব নিয়ে অকারণে নেটিজেনদের একাংশের কুরুচিকর ট্রোলের শিকার হন প্রিয়াঙ্কা। এমনকি তাঁদের অতীতের বিচ্ছেদ টেনে এনে আক্রমণও করা হয়েছে অভিনেত্রীকে। তবে এই সমালোচনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, শোক প্রকাশের নিজস্ব ভাষা থাকে প্রত্যেক মানুষের। একজন স্ত্রী ও মায়ের ব্যক্তিগত দুঃখকে এভাবে বিচার করা অনভিপ্রেত ও অমানবিক।
২০২২ সালে সম্পর্ককে নতুন করে সুযোগ দিয়েছিলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গড়ে ওঠা সেই সম্পর্কের হঠাৎ ইতি টানায় স্তব্ধ তাঁদের অনুরাগীরাও। এই কঠিন সময়ে একদিকে স্বামীর মৃত্যু, অন্যদিকে ছেলেকে সামলানোর দায়িত্ব—সব মিলিয়ে নীরব শক্তির পরিচয় দিচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা।

