
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দলের নাম বা নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে আলাদা করে কোনও দাবি জানাতে হয়নি বলে জানিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁদের দাবি, তারাই প্রকৃত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বৈঠক শেষে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “কোনওরকম বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। দলের দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলররা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে।”
নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ দখলে মরিয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ইতিমধ্যেই কলকাতার সিইও অফিসে গিয়ে ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ বিধায়ক তথা ‘আসল তৃণমূলে’র গঠন করা জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যরা তাঁদের তথাকথিত ‘বিশেষ অধিবেশনে’র নথি জমা দিয়ে এসেছেন। বৃহস্পতিবার কমিশনের ফুল বেঞ্চ অর্থাৎ জ্ঞানেশ কুমারের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের দল রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রতদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এদের মধ্যে ৯ জন বিধায়ক ও ১ জন প্রাক্তন মন্ত্রী।
কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে কয়েক মিনিটের বৈঠক শেষে ঋতব্রতর দাবি, “আসল তৃণমূল, বা তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে কোনও বিবাদের প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে, প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলররা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলছেন, “গত ২২ জুন আমাদের বিশেষ ডেলিগেটদের অধিবেশন হয়েছে। সেখানে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ করা হয় আখরুজ্জামানকে। সেই অধিবেশন সম্পর্কে পরদিনই আমরা কমিশনকে জানাই। আজ কমিশনের ফুল বেঞ্চ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে সময় দিয়েছিল। আমরা দেখা করে আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি।”
প্রশ্ন হল, যদি তাঁরাই আসল তৃণমূল হন, দলের প্রতীক বা তহবিল নিয়ে কোনও প্রশ্ন না থাকে, তাহলে কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রয়োজনটা কেন পড়ল? বৈঠকে ঋতব্রতদের দাবিটাই বা কী ছিল? স্পষ্ট কোনও জবাব ঋতব্রতর কথায় মেলেনি। আসল তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, “কমিশন আমাদের বক্তব্য শুনেছে। কমিশন আমাদের জানিয়েছে, দ্রুত আমাদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখে, যোগাযোগ করবে।” কিন্তু প্রশ্ন হল, কোন দাবিদাওয়ার কথা বলছেন ঋতব্রতরা, একবার নিজেরাই বলছেন, দাবির প্রশ্ন নেই-আমরা আসল তৃণমূল। আবার পরক্ষণে নিজেরাই বলছেন, “কমিশন আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে।” বিরোধী দলনেতার কথায় প্রশ্নের জবাব না মিললেও ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ঋতব্রতরা মূলত কালীঘাট তৃণমূলের হাত থেকে দলের প্রতীক এবং তহবিলের দখল নেওয়ার উদ্দেশেই কমিশনে গিয়েছিলেন। সেই মতো নিজেদের দাবিদাওয়াও জানিয়ে এসেছেন। তাঁদের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানকে দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়াটাই মূল দাবি। কমিশন দ্রুত সবটা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বলেও দাবি ঋতব্রত শিবিরের।
