
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী শিবির। দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশের পর এবার সেই কর্মসূচির পালটা হিসেবে দেশজুড়ে পথে নামল বিজেপিও। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে একাধিক শহরে পদযাত্রার আয়োজন করেছে গেরুয়া শিবির। তারই অংশ হিসেবে সোমবার কলকাতার রাজপথে বিজেপির মিছিল শুরু হয়েছে কলেজ স্ট্রিট থেকে। মিছিলের গন্তব্য ধর্মতলা। নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। তাঁর সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিন নেতার কাঁধেই দেখা গিয়েছে জাতীয় পতাকা। একই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এদিন হায়দরাবাদেও পদযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধীদের ‘ভোটচুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগের পালটা বক্তব্য তুলে ধরতেই এই দেশজোড়া কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি।
সোমবার দুপুরেই কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন নীতীন নবীন। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যরা। বিমানবন্দর থেকে তাঁরা কলেজ স্ট্রিটের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে আগে থেকে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছে তেরঙ্গা কাঁধে নিয়ে মিছিল শুরু করেন নীতীন নবীন। পাশেই ছিলেন শুভেন্দু ও শমীকও। মূলত বিরোধীদের মিথ্যাচার ও ‘আরশোলাদের অরাজকতা’র বিরুদ্ধেই শহরে শহরে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। সেই উদ্দেশ্যেই কলকাতায় এই মেগা কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
মিছিলের আগে দুপুর থেকেই কলেজ স্ট্রিটে জড়ো হচ্ছিলেন দলের নেতা-কর্মীরা। জমায়েতে দেখা গিয়েছে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারকেও। তিনি জানান, বিরোধীদের অরাজকতার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষা করার যাত্রা এটি। মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে গিয়ে জনতা সত্যের সঙ্গে আছে। মিছিলের আগে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং জানান, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে বিদেশি শক্তি পয়সা দিচ্ছে। তবে কলকাতার এই মিছিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিএমের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। তিনি জানান, বিরোধীদের বিক্ষোভের আঁচ রাজ্যে পড়েনি। এখানে মাত্র ৬ মাস হয়েছে নতুন সরকার গঠন হয়েছে। তাহলে এখানে কেন মিছিল ?
কলকাতায় আসার আগে বিহারের ভাগলপুরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে যোগ দেন নীতীন নবীন। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধীদের তোপ দাগেন তিনি। নীতীন বলেন, “বিরোধীরা শুধু ক্ষমতা দখল করতে চায়। আমাদের কাছে সবার আগে সংবিধান। গণতন্ত্র রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এসআইআরের পর তামিলনাড়ু ও কেরলেও নির্বাচন হয়েছে। সেখানে বিরোধীরা জিতেছে। তখন তো এসআইআর নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি!”
