
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের আমেজ কার না প্রিয়! কুয়াশাঘেরা সকাল, নরম রোদ আর গরম চায়ের কাপ—সব মিলিয়ে এই মরসুমে মন যেমন ভালো থাকে, তেমনই সমস্যায় পড়ে ত্বক। ঠান্ডা হাওয়া ও আর্দ্রতার অভাবে শীতকালে ত্বকের দফারফা হতে সময় লাগে না। খুব দ্রুতই ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে, রুক্ষ ও প্রাণহীন। ফলে অনেকেই ত্বকের যত্নে নামী ব্র্যান্ডের দামি ক্রিম বা লোশনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। শীতকালীন স্কিন কেয়ারের আসল সমাধান লুকিয়ে আছে আমাদের রান্নাঘরেই। কোনও রাসায়নিক ছাড়াই, ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করে সহজেই তৈরি করা যায় কার্যকর স্কিন কেয়ার।
কেন প্রয়োজন বাড়তি যত্ন?
শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে ত্বক খুব দ্রুত নিজের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। তার সঙ্গে গরম জল দিয়ে স্নান ও সারাদিন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার অভ্যাস ত্বকের শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ দেখা দেয় চুলকানি, ফাটল, টানটান ভাব এবং কখনও কখনও লালচে ভাবও।
রইল ৭টি অব্যর্থ ঘরোয়া টোটকা—
১) শিয়া বাটার ও আমন্ড তেল: শিয়া বাটারের সঙ্গে অল্প আমন্ড তেল মিশিয়ে হালকা আঁচে গরম করুন। এরপর ঠান্ডা করে ফেটিয়ে নিলেই তৈরি জমাট বাঁধা ক্রিম। এটি রুক্ষ ত্বকের জন্য মহৌষধ।
২) অ্যালোভেরা ও গ্লিসারিন: যাঁরা খুব বেশি চ্যাটচ্যাটে ভাব পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য এটি সেরা। অ্যালোভেরা জেল ও গ্লিসারিন মিশিয়ে তৈরি করুন হালকা ‘হাইড্রেটিং জেল’।
৩) দুধের সর ও অলিভ অয়েল: এই পুরনো ঘরোয়া টোটকা আজও কার্যকর। দুধের সরের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাখলে ত্বকে আসবে রাজকীয় জেল্লা।
৪) মধু ও নারকেল তেল: মধু আর্দ্রতা টানে আর নারকেল তেল তা ত্বকে ধরে রাখে। এই মিশ্রণ নিস্তেজ ত্বকে প্রাণ ফেরাতে সক্ষম।
৫) মৌমাছির মোম বা বি-ওয়াক্স: জল, অলিভ অয়েল ও মোম মিশিয়ে তৈরি এই ক্রিম প্রচণ্ড শীতেও ত্বক ফাটতে দেয় না।
৬) অ্যালোভেরা ও নারকেল তেল: যাঁদের ত্বক শীতে লাল হয়ে যায় বা চুলকায়, তাঁদের জন্য এই শীতল মিশ্রণটি বেশ আরামদায়ক।
৭) ভিটামিন-ই ট্রিটমেন্ট: যেকোনও ঘরোয়া ক্রিমের সঙ্গেই ভিটামিন-ই ক্যাপসুলের নির্যাস মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে।
জরুরি পরামর্শ— ত্বক ভেজা অবস্থাতেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটু ঘন বা ভারী ক্রিম লাগালে ত্বক সারারাত আর্দ্র থাকে। অ্যালোভেরা থাকা ঘরোয়া মিশ্রণ অবশ্যই ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন এবং এক সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করবেন না। পাশাপাশি, কোনও নতুন উপাদান ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া জরুরি। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার বেছে নিলেই মিলবে সেরা ফল।
