
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে এক বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থাকল কলকাতা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক-এর সল্টলেক অফিস এবং এর অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করে ইডি (ED)। সেই খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসনিক প্রোটোকল ভেঙে প্রথমে লাউডন স্ট্রিট এবং পরে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ-এর আই-প্যাক দপ্তরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
বৃহস্পতিবার সকালে পুরনো কয়লা পাচার মামলায় আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডির দিল্লির আধিকারিকরা। তল্লাশি চালানো হচ্ছে আই-প্যাকের অফিসেও। ১২টার পর প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে সবুজ রংয়ের একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। তারপর রওনা দেন সংস্থার সল্টলেকের দপ্তরে। তারপরই ১২টা ৪৪ মিনিট নাগাদ আবাসনের ১১ তলায় আই-প্যাকের অফিসের ভিতর যান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ। এরপরই অফিসের ভিতর থেকে একগুচ্ছ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন একজন। রাখা হয় মমতার গাড়িতে। বাইরে ছিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, সুজিত বসুরা। এখন ঘড়ির কাঁটায় ১টা বেজে ২৫ এখনও অফিসের ভিতরেই রয়েছেন তিনি। যে কোনও সময় বেরিয়ে আসতে পারেন তিনি। মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। সাংবাদিক বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা। তৃণমূল নেত্রীর দাবি , তৃণমূলের গোপন তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই ইডি অভিযান করিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতা বলেন, “এই অভিযান দুর্ভাগ্যজনক। আমার আইটি দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে। দলের সব গোপন নথি এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডিকে দিয়ে হামলা করেছেন ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। নটি হোম মিনিস্টার।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতীকের কাছ থেকে দলের কিছু ফাইল এবং হার্ড ডিস্ক নিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূল নেত্রীর সাফ কথা, “এগুলি আমার দলের। আমি নিয়ে যাচ্ছি।” মমতার তোপ, “রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কোনও নথি ছাড়া ভোটারদের সন্দেহ করা হচ্ছে। দেশটাকে রক্ষা করতে পারে না। খালি ষড়যন্ত্র করছে।” মমতার প্রশ্ন, “আমার দলের গোপন তথ্য জানার জন্য আই প্যাক অফিসে হানা। আমি যদি বিজেপি অফিসে হানা দিই।”
