
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিড়ালছানাকে নিয়ে দিন তো বেশ কেটে যাচ্ছে, কিন্তু আপনি কি তার সঠিক অভিভাবক হয়ে উঠতে পেরেছেন? মনে রাখবেন, একটি পোষ্য শাবককে বড় করা আর মনুষ্যসন্তানকে বড় করার মধ্যে খুব একটা তফাত নেই। তাদের কখন কী প্রয়োজন, কোন খাবারটি উপযুক্ত—এসব বিষয়ে সজাগ থাকা জরুরি। প্রখ্যাত পশুরোগ চিকিৎসক আমির আনোয়ারি সম্প্রতি তিনটি বিশেষ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা অবহেলা করলে আপনার ছোট্ট বিড়ালছানাটির বড়সড় ক্ষতি হতে পারে। ভালোবাসা তো থাকবেই, তবে তার সাথে চাই সঠিক সচেতনতা।
শুকনো খাবার:
বিড়াল বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই তাকে শুকনো খাবার দেওয়া শুরু করেন, বলছেন চিকিৎসক। বিড়ালের জন্য পাওয়া যায় এমন অনেক খাবারই। চিকিৎসক সতর্ক করছেন, শুধু শুকনো খাবার তাদের খাওয়ানো মোটেই সঠিক কাজ নয়। কারণ, শরীরে জল কম গেলে কিডনি এবং ব্লাডারে সমস্যা হতে পারে। এমন ধরনের অসুখ নিয়ে পোষ্যের অভিভাবকেরা তাঁর কাছে আসেন বলে জানাচ্ছেন পশুরোগ চিকিৎসক। শুধুমাত্র শুকনো খাবারের উপর নির্ভর করলে বিড়ালের শরীরে জলশূন্যতাও দেখা দিতে পারে। কারণ, বিড়াল এমনিতে জল খেতে চায় না। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘বিড়ালের শরীরের প্রয়োজনীয় ৮০ শতাংশ জলই আসে খাবার থেকে। তাই সুস্থ রাখার জন্য ছোট থেকেই তরল খাবার ডায়েটে রাখা জরুরি।’’
মনোযোগের অভাব:
বিড়াল নিজের মতোই থাকতে পছন্দ করে, দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটায়। একেবারে ছোট অবস্থায় তার দিকে বাড়ির সকলের নজর থাকলেও, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনোযোগ কমতে থাকে বহু বাড়িতেই। অনেক বাড়িতেই বাড়ির সদস্যেরা কাজের জন্য বেরিয়ে গেলে একেবারেই একা হয়ে যায় মার্জার শাবক। তবে সর্ব ক্ষণ নজরদারি তাদের অপছন্দ হলেও, মনিবের সঙ্গ তারাও চায়। না হলে বিড়াল মনমরা হয়ে পড়তে পারে।
খাদ্যাভ্যাসে বড় বদল:
আচমকা খাবারের অভ্যাস বদল করাতে গেলেও বিপদ হতে পারে। বয়স অনুযায়ী কোন খাবার কতটা দিতে হবে, পশুরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই তা খাওয়ানো দরকার। হঠাৎ করে বিড়ালের খাবারের তালিকায় বেশ বড়সড় বদল আনলে হজমের সমস্যা হতে পারে। বমি করতে পারে বিড়াল। সে কারণে খাদ্যাভ্যাসে বদল ঘটাতে গেলেও তা ধীরেসুস্থে করা দরকার।
