
কোহিমা, ৭ ফেব্ৰুয়ারি : নাগাল্যান্ডের জুকৌ ভ্যালির কাছে উদ্ধার হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত শ্রীনগর থানাধীন মালয়নগর, নেপালি টিলা এলাকার বাসিন্দা নিখোঁজ ২২ বছর বয়সি প্রণব দাসের মৃতদেহ। নিশ্চিত করেছে কোহিমা পুলিশ।চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি প্রণব দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ সংক্রান্ত এক এফআইআর কোহিমার দক্ষিণ থানায় দায়ের করা হয়। এফআইআর-এর ভিত্তিতে দক্ষিণ থানায় ০০০৫/২৬ নম্বরে বিএএনএস-এর ১৪০(২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত-অভিযান চালায় পুলিশ। এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ২ জানুয়ারি কোহিমায় আসেন প্রণব দাস। শেষবার তাঁকে লেরি কলোনির একটি হোম-স্টেতে অবস্থান করতে দেখেছিলেন স্থানীয়রা।
তদন্ত পুলিশ জানতে পারে, ২ জানুয়ারি হোম-স্টেতে চেক-ইন করেছিলেন প্রণব দাস। ৪ জানুয়ারির ভোরে সেখান থেকে তিনি বেরিয়ে যান। নথিপত্র ঘেঁটে পুলিশ দেখেছে, সেদিনই তিনি ভিসওয়েমা এন্ট্রি পয়েন্ট দিয়ে জুকৌ ভ্যালিতে প্রবেশের টিকিট বুক করেছিলেন। হোম-স্টের তত্ত্বাবধায়ক, ট্যাক্সি চালক, পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বয়ান নেওয়া হয়। পাশাপাশি কল ডিটেইল রেকর্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন এবং আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণও করে পুলিশ।ত্ৰিপুর যুবক প্ৰণব দাসের সন্ধান বের করতে একাধিক জায়গায় যৌথভাবে অভিযান চালায় কোহিমা জেলা পুলিশ, জেলা প্ৰশাসন, দক্ষিণ আংগামি ইয়ুথ অর্গানাইজেশন এবং নাগাল্যান্ড স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি। জুকৌ ভ্যালির দুর্গম এলাকায় ড্রোনের সাহায্যে তালাশি চালানো হলেও প্রাথমিকভাবে তাঁর সন্ধান মেলেনি।
কিন্তু, গতকাল ৬ ফেব্রুয়ারি জুকৌ ভ্যালি হেলিপ্যাডের নীচে নদী তীরে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর আসে পুলিশের কাছে। খবর পেয়ে আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পুলিশ, জেলার প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট, দক্ষিণ আংগামি ইয়ুথ অর্গানাইজেশন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।ঘটনাস্থলেই প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্ৰথামিক ইনকোয়েস্ট করা হয়। মৃতদেহের কাছে পাওয়া গেছে প্রণব দাসের নামে ইস্যুকৃত জুকৌ ভ্যালির এন্ট্রি স্লিপ, দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা সহ একটি বাদামি রঙের মানিব্যাগ এবং পরিচয়পত্র। এ সবের মাধ্যমেই মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ আংগামি ইয়ুথ অর্গানাইজেশন-এর স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় মৃতদেহটি উপত্যকা থেকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে থানায় আনা হয়। পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা নাকি অনুরোধ করেছেন, কোহিমায় তাঁদের পৌঁছানো পর্যন্ত যেন কোনও ময়নাতদন্ত করা না হয়। এ খবর লেখা পর্যন্ত মৃতদেহটি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আত্মীয়দের আগমনের অপেক্ষায় থানার মর্গে রাখা হয়েছে।এ মুহূর্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাপ্ত প্রমাণ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে কোহিমা পুলিশ জনিয়েছে।
