
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বাজেট বিতর্ক ছাপিয়ে লোকসভায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে বাংলা। আসন্ন বিধানসভা ভোটের ছায়া যে সংসদের অন্দরেও পড়েছে, তা নির্মলা সীতারমণের জবাবি ভাষণেই স্পষ্ট হয়ে গেল। বাংলার পাওনা গণ্ডা নিয়ে তৃণমূলের তোলা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অর্থমন্ত্রী বরং বেছে নিলেন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের পথ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধতে গিয়ে তিনি যখন সুর চড়ালেন, তখন অধিবেশন কক্ষ হয়ে উঠল বাকযুদ্ধের ময়দান। এর জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন।
বুধবার লোকসভায় জবাবি ভাষণের দীর্ঘ সময় বাংলা নিয়েই ব্যয় করেন অর্থমন্ত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের “মৃত্যুর পর ধূপকাঠি জ্বালাতেও জিএসটি দিতে হয়” কটাক্ষকে ‘মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য’ বলে আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। পাল্টা কটাক্ষে তিনি বলেন, “বাংলায় মৃত্যুর পর জিএসটি দেওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক। হয়তো সেখানে মৃত্যুর পর ‘কাটমানি’ নেওয়াই নিয়ম’।” তাঁর দাবি, শেষকৃত্যে বা মৌলিক পরিষেবায় কোথাও জিএসটি নেই, আর তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। জিএসটির পাশাপাশি জ্বালানির দাম নিয়েও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন সীতারমন। প্রশ্ন ছুড়ে দেন, সাধারণ মানুষের বোঝা কমাতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রোলের দাম দিল্লির তুলনায় ১০ টাকা বেশি কেন? রাজ্য চাইলে জিএসটি কমাতে পারে, কিন্তু টাকা নেবে আবার কেন্দ্রকে অপমানও করবে, এই দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা ইস্যুতেও আক্রমণ তীব্র হয়। ডানকুনি থেকে সুরাত পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মালবাহী করিডরের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ‘কৃতিত্ব দাবি’কেও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলার কিছু নেতা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন এবং আমরা নতুন কিছু করছি না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
নির্মলার বক্তব্যের জবাব দিয়ে রাতেই এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে কটাক্ষ করে লেখেন, “ধন্যবাদ নির্মলা সীতারমণ। শুধু দুই ভারতের বাস্তবতাই আপনি স্বীকার করেননি, সেই বিভাজনকে এত সহজে নিজের মধ্যে ধারণ করার জন্যও আপনার ধন্যবাদ প্রাপ্য।” দেশের আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেক লেখেন, “আমি দুই ভারতের কথা বলছি- এক ভারত যেখানে পরিবারগুলির কাছে পিঁয়াজ কেনাই কঠিন হয়ে উঠছে, যেখানে টিকে থাকাই লক্ষ্য। আরেক ভারত যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক পদে থাকা ব্যক্তি অনায়াসে বলেন, তিনি পিঁয়াজ খান না বলেই দাম নিয়ে ভাবিত নন।”
বৃহস্পতিবার ফের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন অভিষেক। এবার তিনি বলেন, “অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, আমার ভাষণ এত মন দিয়ে শোনার জন্য। তিনি যদি বাংলার মানুষের আবাস যোজনা, মনরেগা, গ্রাম সরোজগার যোজনা, জল জীবন মিশনের টাকার দাবি এতটা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন তাহলে ভালো লাগত।” ইস্যু ধরে ধরে অভিষেক তোপ দাগেন নির্মলাকে। তিনি বলেন, “অর্থমন্ত্রী ঠিক বলেছেন, তরল দিধে কোনও জিএসটি নেই। কিন্তু যে মায়েরা তরল দুধ কিনতে পারেন না, পাউডার দুধ মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়ান, সেই পাউডার দুধে ৫ শতাংশ জিএসটি। অর্থমন্ত্রী ঠিক বলেছেন, পাঠ্যবইয়ে জিএসটি নেই। কিন্তু গ্রাফ পেপার, নোটবুকে ১২ শতাংশ জিএসটি। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও তিনি ঠিক বলেছেন, ডাক্তার দেখাতে জিএসটি লাগে না। কিন্তু অক্সিজেন সিলিন্ডার, অ্যানাস্থেসিয়ায় ১২ শতাংশ জিএসটি, ইনসুলিনে পাঁচ শতাংশ। এটাও ঠিক যে শেষকৃত্যে জিএসটি লাগে না। কিন্তু শেষকৃত্যে আমরা যে ধূপকাঠি জ্বালি তাতে পাঁচ শতাংশ জিএসটি দিতে হয়। নতুন ভারতে দুঃখপ্রকাশের জন্যও জিএসটি দিতে হয়।” এরপরই অভিষেকের কটাক্ষ, “মাননীয়া অর্থমন্ত্রী আমাকে ঠিক প্রমাণ করার জন্য ধন্যবাদ। যতদিন না আপনি জিএসটি আইনে কী লেখা আছে, আর সাধারণ জনতার রোজকার খরচে কী আছে সেটার পার্থক্য বুঝবেন, ততদিন আপনি আপনার ভারতে বাস করুন, আমি আমার ভারতে। ধন্যবাদ আমার বক্তব্য আমার থেকে ভালোভাবে তুলে ধরার জন্য।”
I thank Hon'ble Finance Minister @nsitharaman for so carefully listening to my speech. Though I wish she'd listen as carefully to the people of Bengal when they ask for their MGNREGA, PMAY, PMGSY and JJM dues. The Finance Minister says I 'twisted facts.' Let me untwist them for… https://t.co/bpEGPQ5SXj pic.twitter.com/awa2frEFFW
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) February 12, 2026
