Breaking News
 
West Bengal Budget: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর, ৪ শতাংশ বাড়ল ডিএ, গঠিত হবে সপ্তম বেতন কমিশন Mamata Banerjee: আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী না যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক, কারণ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Mamata Banerjee on Suvendu Adhikari: বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণ ঘিরে তীব্র বাকযুদ্ধ, অনুপ্রবেশ বনাম ভিনরাজ্যে বাঙালি নিগ্রহ প্রসঙ্গে মুখোমুখি মমতা–শুভেন্দু West Bengal Budget: সংক্ষিপ্ত রাজ্যপাল ভাষণ ঘিরে বিধানসভায় রাজনৈতিক তরজা, ভোট অন অ্যাকাউন্টের দিনেই শাসক-বিরোধী মুখোমুখি WB interim budget 2026: গিগ কর্মীদের জন্য ‘কবচ’ স্বাস্থ্যসাথী! বাজেটে বড় চমক রাজ্যের, বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন হাজার হাজার শ্রমজীবী West Bengal Budget 2026: কেন্দ্র না দিলেও পাশে আছে রাজ্য! ১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাবে সিলমোহর, বাজেটে শ্রমিকদের জন্য বড় সুখবর

 

Entertainment

2 hours ago

Shamik Adhikary: নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দির আগে কান্নাভাঙা বয়ান, জামিন খারিজ শমীক অধিকারীর

Social Media Influencer Shamik Adhikary
Social Media Influencer Shamik Adhikary

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারীকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার আলিপুর আদালতে শুনানির পরই জামিনের আবেদন খারিজ করে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

এরই প্রাক্কালে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বিভীষিকাময় রাতের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতা তরুণী। তিনি বলেন, “শমীক নতুন ফ্ল্যাটে শিফট করছে তাই বন্ধুর মতোই ডেকেছিল। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আমি যাই। ওর মা-বাবার সঙ্গে হাতে হাত লাগিয়ে কাজে সাহায্য করি জিনিসপত্র গোছাতে। পরেরদিন যেহেতু কলেজ ছিল তাই রাত ৯টা নাগাদ আমি বেরনোর জন্য ক্যাব বুক করতে যাই। আমার হাত থেকে তখনই মোবাইল নিয়ে যেতে বারণ করে শমীক। এরপরই আমার মোবাইল ঘাঁটা শুরু করে। সেখানেই অন্য এক ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দেখে ওর অহমবোধে আঘাত লাগে। এরপরই দরজা বন্ধ করে আমাকে মারধর শুরু করে। সেখানেই অন্য এক ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দেখে ওর অহমবোধে আঘাত লাগে। এরপরই দরজা বন্ধ করে আমাকে মারধর শুরু করে। তখনও ওর মা-বাবা ওখানে উপস্থিত। আমি তখন যেটাই উত্তর দিই না কেন, সব কথাতেই আমাকে মারছিল। মারের চোটে আমার এক চোখ ফুলে যায়। আমার চোখের নিচে এখনও কালশিটে পড়া। এরমাঝে আমার চিৎকার শুনে ওর মা-বাবা আসে। তখন ও নিজে সুইসাইডের হুমকি দেয়। ওর বাবা-মা তাতেই ভয় পায়। কিন্তু আমাকে মারছে দেখেও ওরা আমাকে একা ফেলে চলে যায়। আমি ওর মাকে ইশারা করে বলতে থাকি ‘আন্টি, কাউকে একটা ফোন করো।’ কারণ আমার ফোন আমার কাছে ছিল না। কিন্তু ওর মা আমার কথা না শুনেই আমাকে ওখানে ছেড়ে চলে যায়। কারণ ওরা নিজেই ভয় পাচ্ছিল শমীকের এহেন রূপ দেখে।”


এরপর কাঁদতে কাঁদতে নির্যাতিতা জানান, শমীক আমাকে মারতে মারতে জিজ্ঞেস করছিল- ‘তোর কি খুব লেগেছে?’ আমার মুখটা ধরে দেখে আমার চোখ ফুলে গেছে। কালশিটে। আমি যখন ছেড়়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। তখন আবারও আমাকে সপাটে মারে। তখন আমি চিৎকার করে উঠি। আমি এমনিতেই চশমা ছাড়া দেখতে পাই না। মারের চোটে তখন আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসে। রাতভর এরকম পাশবিক আচরণ করেছে। ওর মা তারপর এসে আমার জামাকাপড় চেঞ্জ করিয়ে দেয়। তখন আমি বারবার বাড়ি ফেরার জন্য শমীক এবং ওর মা-বাবার কাছে অনুরোধ জানাই। কিন্তু ওরা আমার চেহারা দেখে আমাকে বাইরে যেতে না বলে। সেসময়ে আমার শরীর ছেড়ে দিয়েছিল। মারের চোটে আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। তার পরের ঘটনা খুব অস্পষ্ট আমার কাছে।”

আগেও কি শমীক অধিকারী এধরণের আচরণ করেছেন? তখনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে নির্যাতিতা বলেন,   “না, এটা আমার সঙ্গে প্রথম। তবে এই ঘটনা বাইরে যাওয়ার পর ওর অনেক প্রাক্তন এবং বন্ধুরাও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ভিডিও প্রমাণ সমেত। ওরাও শমীকের কাছে যৌনহেনস্তার শিকার। ও কী কী করেছে? সব প্রমাণ আছে আমার কাছে। এরকমও অনেকে যোগাযোগ করেছেন, যাদের সঙ্গে আমার পরিচয়ও নেই। আমি ভেবেছিলাম, আমিই প্রথম। তবে আমার কাছে এখন এরকম অনেকের ছবি আছে, যারা ওর অত্যাচারের শিকার। তারাও আমাকে বলছে- ‘এটা তোর একার সঙ্গে হয়নি। আমাদের সাথেও হয়েছে। আমরা কেউ কিছু বলিনি। কেউ কিছু করিনি।’ নির্যাতিতার সংযোজন, “মারধরের মাঝেই শমীক আমাকে হুমকি দিচ্ছিল- ‘তুই কিছু করে দেখ। তুই এখান থেকে বেরিয়ে দেখ, তোকে মার্ডার করে দেব। তোর মৃত্যু আমার হাতেই আছে।’ ওর বাবা থামাতে আসায় তাঁকেও প্লাইয়ের টুকরো নিয়ে তাড়া করে শমীক…”, তারপরই চরম কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতা।

অন্যদিকে আদালতে শমীকের আইনজীবী দাবি করেন, দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল এবং যদি কোনও শারীরিক সম্পর্ক হয়ে থাকে, তা দু’তরফের সম্মতিতেই। তবে সরকারি আইনজীবী আদালতকে জানান, অভিযুক্ত তরুণীকে বাড়িতে আটকে রেখে দিনের পর দিন শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। নির্যাতিতার সারা শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, চোখের তলায় স্পষ্ট কালশিটে দাগ মিলেছে। একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে এবং বাধা দিতে গেলে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।


You might also like!