
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দু’ দশকের দাম্পত্যে ভাঙন, মাতৃবিয়োগের শোক— একের পর এক ব্যক্তিগত ঝড় সামলে এখন অনেকটাই স্থিত নীলাঞ্জনা শর্মা। দুই মেয়ে সারা-জারাকে আঁকড়ে ধরে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি। প্রযোজক হিসেবে নিজের কাজও সামলাচ্ছেন দৃঢ় মনোবলে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও যে আজ তিনি রণপোক্ত যোদ্ধা, তার ইঙ্গিত মিলল তাঁর সাম্প্রতিক সোশাল মিডিয়া পোস্টেই।
শুক্রবার গভীর রাতে ‘কৃতজ্ঞ চিত্তে’ একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেন নীলাঞ্জনা। সেখানে তিনি লেখেন, “অর্থহীন বলেই যে কোনও কিছু শেষ হচ্ছে, তেমন নয়। বরং সেটা থেকে যা শেখার ছিল, তার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আর এই অধ্যায়টা শেষ করার সময়ে আমার মনে শুধুই একরাশ কৃতজ্ঞতা। কারণ আমি যখন নিজেকে চিনতাম না, তখন এটা আমাকে মর্যাদা ধরে রাখতে শিখিয়েছে। নীরবেই আমার মধ্যে স্বাধীনচেতা সত্ত্বা গড়েছে। এবং আপোষহীন আত্মসম্মানবোধের পাঠ দিয়েছে। আর এখানেই আমি নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়েছি।” সেই পোস্টেই তাঁর সংযোজন, “আমি নিজে কতটা কী পারি, সেটা শিখেছি। আজ যা শেষ হচ্ছে, তা আমাকে শূন্য করে দিচ্ছে না। এই অধ্যায় আমার মধ্যে সাহস, স্পষ্টতা এবং নিজের প্রতি গভীর আস্থা এনেছে। এটা এমন এক সমাপ্তি যা আমি শ্রদ্ধা-সহকারে পূর্ণ হৃদয়ে গ্রহণ করছি।” যদিও পোস্টে কোথাও সরাসরি ডিভোর্সের কথা উল্লেখ করেননি নীলাঞ্জনা, তবু ‘এক অধ্যায় সমাপ্তি’ শব্দবন্ধেই জল্পনা তুঙ্গে। অনেকের অনুমান, যিশু সেনগুপ্তর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক এবার আইনি ভাবেই শেষের পথে।
এই আবেগঘন মুহূর্তে নীলাঞ্জনার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী বরখা বিস্ত। পোস্টের মন্তব্য অংশে তিনি লেখেন, “তোমার পরিস্থিতি আমি খুব ভালো করে বুঝতে পারছি। অসংখ্য শুভকামনা রইল।” উল্লেখ্য, বরখা নিজেও সম্প্রতি ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর্বের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন বলে টিনসেল টাউনে জোর চর্চা। প্রসঙ্গত, এর আগেও যিশু-নীলাঞ্জনার সম্পর্ক ভাঙনের নেপথ্যে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। এবার নীলাঞ্জনার ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ও বরখার সমর্থন— দুই নারীর অভিজ্ঞতা যেন একই সুরে মিলেমিশে গেল। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে নীলাঞ্জনার এই নতুন সফর ঘিরে নেট দুনিয়ায় জোর চর্চা।
