
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গণেশ চতুর্থী মানেই ঘরে ঘরে সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা। ভক্তির সঙ্গে পুজো করে সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন অনেকে। কয়েক দিন ধরে উৎসবের আমেজ চলার পর নিয়ম মেনে প্রতিমার বিসর্জনও দেওয়া হয়। এরপর ফের অপেক্ষা আরও এক বছরের। তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও পরিবেশের কথা মাথায় রাখা জরুরি।
বাজারে পাওয়া অধিকাংশ প্রতিমা তৈরিতে প্লাস্টার অফ প্যারিস, কৃত্রিম রং এবং বিভিন্ন অ-বিয়োজ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়। বিসর্জনের পর এই উপকরণগুলি সহজে জলে মিশে যায় না। ফলে জলদূষণের পাশাপাশি পরিবেশের উপরেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
তবে চাইলে বাড়িতে থাকা কয়েকটি সহজলভ্য উপকরণ দিয়েই তৈরি করে নিতে পারেন পরিবেশবান্ধব গণেশমূর্তি। আকারে ছোট হলেও নিজের হাতে তৈরি প্রতিমার সৌন্দর্য কোনও অংশেই কম নয়। বরং নিজের হাতে মূর্তি তৈরির মাধ্যমে পুজোর আনন্দের সঙ্গে যোগ হতে পারে সৃজনশীলতা ও নিজস্বতার ছোঁয়া।
∆ যা যা লাগবে—
এই মূর্তি তৈরি করতে প্রয়োজন হলুদ গুঁড়ো, ময়দা, চিনি গুঁড়ো ও সামান্য জল। মূর্তির গায়ে নকশা করতে চাইলে কাঠের চামচ, টুথপিক প্রভৃতি ব্যবহার করা যায়। হাত মোছার জন্য নরম কাপড় সবসময় রাখুন নাগালে। শিশুরা এ কাজ করলে বড়দের নজরদারি থাকা জরুরি।
∆ কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে একটি পাত্রে ময়দা, হলুদ গুঁড়ো ও চিনি গুঁড়ো নিন। অল্প অল্প করে জল দিয়ে মিশিয়ে নরম কিন্তু শক্তপোক্ত একটি ডো তৈরি করুন। খুব বেশি জল একসঙ্গে দেবেন না, কারণ মিশ্রণ অতিরিক্ত নরম হয়ে গেলে মূর্তির আকার দেওয়া কঠিন হবে।
এবার ডো-টি কয়েকটি ভাগে ভাগ করুন। একটি বড় অংশ দিয়ে গণেশের শরীর, আর ছোট অংশ দিয়ে মাথা তৈরি করুন। আলাদা করে শুঁড়, কান, হাত ও পা তৈরি করে শরীরের সঙ্গে জুড়ে দিন। শুঁড়টি সামান্য বাঁকিয়ে দিলে মূর্তি আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
এরপর কাঠি বা অন্য কোনও ভোঁতা সরঞ্জামের সাহায্যে চোখ, কানের নকশা এবং অন্যান্য সূক্ষ্ম অংশ ফুটিয়ে তুলুন। খুব ছোট বা ধারালো কোনও জিনিস ব্যবহার না করাই ভালো, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। মূর্তি তৈরি হয়ে গেলে এবার শুকানোর পালা। বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রেখে ধীরে ধীরে শুকিয়ে নিন।
সাজসজ্জাতেও থাকুক প্রকৃতির ছোঁয়া। কৃত্রিম গ্লিটার বা প্লাস্টিকের অলংকারের বদলে ফুল, পাতা দিয়ে তৈরি করুন সিদ্ধিদাতার আভূষণ।
