
হুগলি, ৮ মে : এবার নাম না করে ভোট-বিপর্যয়ের জন্য দলনেতা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে তোপ দাগলেন হুগলির উপর্যুপরি দু’বারের সাংসদ, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, ২০০১ ও ’০৬-এর বিধায়ক, দলের জেলা সভানেত্রী (২০১৯-’২১), এবং কংগ্রেস আমলের শ্রমমন্ত্রী গোপাল দাসনাগের কন্যা ডঃ রত্না দে নাগ।
ফলপ্রকাশের পর রাজ্যের তিনি সামাজিক মাধ্যমে আশাবাদের কথা লিখেছিলেন। দু’দিনে তাতে প্রতিক্রিয়া এসেছে ১১৩টি। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বড় হরফে লেখেন, “পুত্র স্নেহে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র কৌরব বংশের ধ্বংসের একমাত্র কারণ।” এই পোস্টে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ৪৪২টি প্রতিক্রিয়া এসেছে। তাতে আছে তাঁর বক্তব্যে সমর্থন, বিরোধিতা এবং আক্ষেপও।
প্রতিক্রিয়ায় অসীম রায় লিখেছেন, “দিদি অনেক অনেক শ্রদ্ধা নেবেন। আমি ২০২১ সালে দল ছেড়ে দিয়ে ছিলাম। এতদিন দলের কারুর কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। এই বলা শুরু হ'ল।” বুবাই ঘোষ লিখেছেন, “দিদি আপনি কংগ্রেসের সাথেও তো রাজনীতিতে থাকতে পারেন। আপনাকে দারুণ লাগে।” সুভাষ পাত্র লিখেছেন, “শুধুমাত্র এই কারণই নয় আরও একটি কারণ হল নেত্রীর দাম্ভিকতা ও চূড়ান্ত অহংকার বোধ।”
সায়ন ঘোষ লিখেছেন, “একদম ঠিক বলেছেন। আপনার মতো মানুষ এই দলে খুব দরকার না হলে এই দলটাই থাকবে না, যদি পারেন হাল ধরুন। খুব খারাপ লাগছে যারা 1998 থেকে দলের জন্য নিজের সব কিছু ত্যাগ করে এই দলটাকে এত দূর নিয়ে এলো তাদের কোনো মূল্য ছিল না এই দলে।”
প্রীতম সেনগুপ্ত লিখেছেন, “আপনার এই পোষ্টের অপেক্ষায় ছিলাম খুব ভালো লাগলো দিদি। আপনি সৎ মানুষ এই ভাবেই সারা জীবন সৎ থাকবেন খুব ভালো লাগলো, ভালো থাকবেন।”
ময়ূখ ব্যানার্জী লিখেছেন, “সত্যি কথাটা অনেক পরে বললেন দিদি....তবু তো বললেন। আপনি একজন অত্যন্ত শিক্ষিত মানুষ।আপনাকে প্রণাম।” তুহিন চক্রবর্তী লিখেছেন, “আপনি দীর্ঘদিন আমাদের সাংসদ ছিলেন। এক ফোঁটা কেউ আপনাকে কালিমালিপ্ত করতে পারেনি। ভালো থাকবেন।”
পুষ্পেন বোস লিখেছেন, “চালুনি ছুঁচের বিচার করে, চন্দননগরে আপনি কী করেছিলেন, 21 no. Word এর লোককে 9 no. Word এ টিকিট দেওয়ার সময় আপনি কি তখন ধৃতরাষ্ট্র হয়ে গিয়েছিলেন?” সৌরভ দেবনাথ লিখেছেন, “সূর্যাস্তের পর রোদ চশমা পড়ে কি লাভ?” ডালিম নামে একজন লিখেছেন, “টিকিট পেতেন, জিততেন যদি, এভাবেই বলতেন? নাকি তখন অন্যরকম ভাবে অন্য কিছু বলতেন?”
শুভেন্দু মন্ডল লিখেছেন, “প্রতিবাদ দলে থেকেই সংগঠিত করতে হয়, এখন আর বলে কী হবে?” আব্দুল মফিজ লিখেছেন, “দিদি এতদিন পর বুঝতে পারলেন। হয়তো এই কথাটা বলতেন না। বিধানসভার টিকিট পেলে। তবে টিকিট পেলেও পান্ডুয়াতে হার অনিবার্য ছিল।”
প্রসঙ্গত ভোটের ফলপ্রকাশের দিন রত্না লিখেছিলেন, “আজকের এই সকাল শুধু একটি দিনের শুরু নয়, এটি নতুন আশার বার্তা । গতকালের ভুল-ত্রুটি, ব্যর্থতা সবকিছু ভুলে গিয়ে আবার নতুন করে পথ চলার সাহস জোগায়। যেন জীবন আমাদের বলছে—‘তুমি আবার শুরু করো, সবকিছু সম্ভব।’
প্রকৃতির এই নির্মল সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের মনকেও নতুন করে গড়ে তুলতে পারে। আজকের এই মুক্তির সকাল আমাদের শেখায়, যতই অন্ধকার থাকুক, আলো একদিন আসবেই। তাই আজকের এই সকালই আমাদের জন্য এক নতুন সুযোগ, এক নতুন জীবন শুরু করার প্রেরণা।” বিপর্যয়ের জন্য কাউকে ইঙ্গিত করা হয়নি। কিন্তু এবার তিনি কটাক্ষ করলেন অভিষেককে।
