
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তর সিকিমের নির্জন পাহাড়ের ভাঁজে লুকিয়ে আছে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের জনপদ—পেন্টং (Phentong)। পর্যটনের মানচিত্রে এই নামটা এখনও অনেকটা নতুন, তাই তো এর অরণ্য আর পাহাড় আজও অস্পৃশ্য, নির্মল। সিকিমের চেনা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ভিড় আর কোলাহল যখন আপনাকে ক্লান্ত করে তোলে, তখন পেন্টং আপনাকে দেবে এক গভীর শান্তির পরশ। মেঘেদের আনাগোনা আর পাহাড়ের নিস্তব্ধতা যেখানে মিতালি করে, সেই লুকানো রত্নটি হতে পারে আপনার পরবর্তী অবসরের স্বর্গরাজ্য।
পেন্টং গ্রামটি উত্তর সিকিমের ডিজঙ্গু (Dzonggu) অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি মূলত সিকিমের আদিম অধিবাসী ‘লেপচা’ সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা এবং চারপাশের ঘন জঙ্গল একে অন্য সব জায়গা থেকে আলাদা করেছে। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক অনন্য রূপ চোখে পড়ে, যা সচরাচর অন্য জায়গা থেকে দেখা যায় না।
কেন যাবেন পেন্টং?
পেন্টং-এর প্রধান আকর্ষণ হলো এর আদিম ও অকৃত্রিম প্রকৃতি। গ্রামটিতে পা রাখলেই মনে হবে আপনি কয়েক দশক পিছিয়ে গেছেন কোনো এক শান্ত পৃথিবীতে।
কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য: এখান থেকে মেঘমুক্ত আকাশে হিমালয়ের তুষারশুভ্র শৃঙ্গগুলো এতটাই স্পষ্ট দেখা যায় যে মনে হয় হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। বিশেষ করে ভোরে যখন সূর্যের আলো শৃঙ্গের ওপর পড়ে, তখন চারপাশ সোনালি আভায় ভরে ওঠে।
লেপচা সংস্কৃতি: পেন্টং ভ্রমণের অন্যতম বিশেষত্ব হলো লেপচা সম্প্রদায়ের আতিথেয়তা। তাঁদের জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাড়িগুলো পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানকার হোমস্টেগুলোতে থাকলে আপনি তাঁদের সংস্কৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অরণ্য ও বন্যপ্রাণী: পেন্টং-এর চারপাশ ঘিরে রয়েছে ঘন এলাচ বাগান এবং পাইন-ওক গাছের জঙ্গল। বিভিন্ন প্রজাতির হিমালয়ান পাখি এবং রঙিন প্রজাপতির দেখা পাওয়া এখানে খুব সাধারণ ব্যাপার। যারা ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এখানকার জঙ্গলের সরু পথগুলো রোমাঞ্চকর হতে পারে।
পেন্টং যেতে হলে প্রথমে শিলিগুড়ি বা গ্যাংটক থেকে মঙ্গন (Mangan) পৌঁছাতে হবে। মঙ্গন থেকে গাড়ি ভাড়া করে ডিজঙ্গু অঞ্চলের বুক চিরে পেন্টং গ্রামে পৌঁছানো যায়। তবে মনে রাখবেন, ডিজঙ্গু সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় এখানে প্রবেশের জন্য বিশেষ পারমিট বা অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা মঙ্গন থেকে সংগ্রহ করা যায়।
কখন যাবেন?
পেন্টং ভ্রমণের সেরা সময় হলো মার্চ থেকে মে মাস এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস। বসন্তকালে পাহাড়ের গায়ে রডোডেনড্রন ফুলের মেলা বসে, আর শীতকালে পরিষ্কার আকাশে হিমালয়ের মোহময় রূপ দেখা যায়।
