
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর পাস বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর গ্রেপ্তারির পর থেকেই একের পর এক অভিযোগ ও বিতর্কিত বক্তব্য সামনে আসছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক অনিয়ম ও কুকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে তাঁকে ঘিরে। এই পরিস্থিতিতে এবার ইন্দ্রনীল সেনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই তাঁকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এনসিপিআই সাংসদ তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন বারাসতের সাংসদ।
কাকলি লিখেছেন, “নারী নির্যাতন ও খুনের মতোই নিন্দনীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলাদের ভোগ করা। ধৃত মন্ত্রী একা নয়, সাঙ্গপাঙ্গদের জন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।” তাহলে কি মন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলাদের উপর নিগ্রহের ঘটনাও ঘটেছে? আগামী দিনে সেই অভিযোগও সামনে আসতে চলেছে? যদিও এই দু’লাইনের বেশি কোনও কিছুই লেখেননি এনসিপিআই সাংসদ। সেই নিয়ে জোর জল্পনাও উঠেছে। পুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। ইডির জেরার মুখোমুখি থেকে বের হতেই সল্টলেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা আধিকারিকরা। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধেও মামলা শুরু হয়েছে। লালবাজারের অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের মদতে ইউনেসকোর নাম ভাঁড়িয়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুজোয় ‘মাস আর্টকে সামনে রেখে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মেয়ে, আত্মীয়র নামে থাকা বেশ কয়েকটি ভুয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে। এমনকী শেল কোম্পানি খুলেও মোটা অঙ্কের টাকা পাচার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। শুধু তাই নয়, প্রভাব খাটিয়ে ইউনেসকোর নাম করে বিভিন্ন সংস্থার থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছিলেন বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারির পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দিদির আশীর্বাদে ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, এরা সবাই নায়ক। অতি ক্ষমতাই দুর্নীতির আসল কারণ।” সাংবাদিক বৈঠক করে এদিন ক্ষোভ উগরে দেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একা দায়ী করলে হবে না। আরও অনেকে পরপর আছে। আমি মনে করি, একটা রাজনৈতিক দলের ৫ থেকে ১০ বছরের বেশি থাকা ক্ষমতায় উচিত নয়। কারণ অতি ক্ষমতাই দুর্নীতির মূল কারণ।”
