
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দেশকে মাওবাদ-মুক্ত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত সাফল্যের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ। একদিকে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর লাগাতার অভিযান, অন্যদিকে পুনর্বাসন প্যাকেজের মাধ্যমে আত্মসমর্পণে উৎসাহ— এই দ্বিমুখী কৌশলে ক্রমেই কোণঠাসা হচ্ছে মাওবাদীরা। এরই মধ্যে ঝাড়খণ্ড সরকারের ‘অপারেশন নবজীবন’-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারান্ডা জঙ্গলে সক্রিয় ২৫ জন সশস্ত্র মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি পরিষদ নামের আরেক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ২ সদস্যও অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যৌথবাহিনী আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
সূত্রের খবর, আত্মসমর্পণকারী ২৫ মাওবাদী নেতানেত্রীর মধ্যে অন্তত ৫ জনের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা করে। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রাঁচির বাসিন্দা, মাওবাদী নেত্রী রেখা মুণ্ডা ওরফে জয়ন্তী। সারান্ডার জঙ্গলে একসময়ে দুর্ধর্ষ অপারেশন চালিয়েছে। বাকি চারজনের নাম – গাদী মুণ্ডা ওরফে গুলশন, নগেন্দ্র মুণ্ডা ওরফে প্রভাত, সাগেন আঙারিয়া, সুলেমান হাঁসদা ওরফে সুনি। ২৫ জনের মধ্যে মোট ১৩ জন সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের সাধারণ ক্যাডার। বাকিদের মধ্যে ৬ জন সাবজোনাল কমিটি এবং ৬ জন এরিয়া কমিটির সদস্য বলে জানা গিয়েছে। সকলেই পশ্চিম সিংভূমের চাইবাসা ও গিরিডির বাসিন্দা। এদের কাছ থেকে মোট ১৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইনসাস, রাইফেল, দেশি পিস্তল ও প্রায় ২৮০০ রাউন্ড কার্তুজ। এছাড়া পাওয়া গিয়েছে ওয়াকিটকিও।অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি পরিষদের আত্মসমর্পণকারী ২ সদস্যের নাম শচীন বেগ ওরফে ইউজিন এবং শ্রবণ গোপ। এরা ঝাড়খণ্ডের গুমলার বাসিন্দা। এদের কাছ থেকে চারটি ম্যাগাজিন ও ১৩০ রাউন্ড গুলি বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে মোট ৪৪ জন সশস্ত্র মাওবাদী গ্রেপ্তার হয়েছে, পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ জন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কেন্দ্রের লাগাতার অপারেশনের পরও ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে ৪০ থেকে ৪৫ জন মাওবাদী এখনও মরণপণ লড়াই করে চলেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ বাংলার সদস্য। নজরকাড়া নাম মিসির বেসরা, অসীম দাস ওরফে আকাশ, রয়েছেন একদা অযোধ্যা স্কোয়াডের নেত্রী, বাঘমুন্ডির আমকোচা গ্রামের বাসিন্দা মীরা পাহাড়িয়াও। তবে ঝাড়খণ্ডের উগ্রবাদী সংগঠন ঝাড়খন্ড জনমুক্তি পরিষদের দু’জন আত্মসমর্পণ করলেও তৃতীয় প্রস্তুত কমিটি (টিপিসি) নামে আরেকটি বিপ্লবী সংগঠনের দাপট এখনও রয়ে গিয়েছে। এই সংগঠনটির অতীতে কার্যকলাপ ছিল পুরুলিয়ার সীমানাতেও।
ঝাড়খণ্ড সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাওবাদী দমনে লাগাতার অপারেশন চালাতে গিয়ে একাধিক কৌশল ছিল সরকারের। জঙ্গলের কোর এলাকা অর্থাৎ যেখানে মাওবাদীদের ডেরা, সেখানে ২১ টি অ্যাডভান্স ক্যাম্প লোকেশন ও ফরওয়ার্ড অপারেটিং ডেন তৈরি করেছিল। যার মাধ্যমে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অপারেশন চালানো এবং তাদের মূল স্রোতে ফেরানো – দুটি কাজই ফলপ্রসূ হয়েছে বলে দাবি।
