Entertainment

2 hours ago

Ketan Agarwal Death Case: ‘একটা সত্যি কেতনের জীবন বাঁচাতে পারত’, পুণে হত্যাকাণ্ডে হিনা খানের বিস্ফোরক বার্তা, নিশানায় তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা মানসিকতা

Ketan and Siya got engaged in February
Ketan and Siya got engaged in February

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুণের ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, দুর্গের প্রায় ৩৫০ ফুট উঁচু এলাকা থেকে অসাবধানতাবশত পা পিছলে পড়েই মৃত্যু হয়েছে কেতন বিশাল আগরওয়ালের। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। ঘটনায় কেতনের বাগদত্তা সিয়া এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দেশে। একদিকে বিয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে সেই সম্পর্কের আড়ালেই এমন ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ—সব মিলিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। অভিযোগ, কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ৩৫০ ফুট নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।  

ঘটনার পর শুরুতে সিয়ার বয়ানকে গুরুত্ব দিয়েছিল তদন্তকারীরা। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর কথায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন সিয়া এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চেতন। পরে পুলিশের কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে সিয়ার পরিবারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ভয়াবহ ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় হিন্দি টেলিভিশন অভিনেত্রী হিনা খান। কেতন হত্যাকাণ্ড নিয়ে সমাজমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যি কথা বলার গুরুত্ব এবং বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ। কেতন মার্ডার কেস হ্যাশট্যাগে সমাজমাধ্যমে হিনা লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে অবস্থান করছি যেখানে সত্যি কথা বলা এবং সেই সত্যি গ্রহণ করার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। কারও প্রাণ কেড়ে নিতেও দ্বিধা করছে না। মনে হচ্ছে, সত্যি মেনে নেওয়ার চেয়ে হত্যা যেন অনেক বেশি সহজ হয়ে গিয়েছে। তোমার একটা সত্যি ওঁর জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারত। তারপর তুমি তোমার পছন্দের এক্স ওয়াই জেডের সঙ্গে জীবন কাটাতে। কিন্তু, আপশোস!’ 


এদিকে কীভাবে এই ঘটনার রহস্যের কিনারা করল পুলিশ, তা নিয়েও উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা লোহাগড় দুর্গের আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। সেখানেই নজরে আসে এক সন্দেহজনক যুবকের গতিবিধি। ফুটেজে দেখা যায়, কেতন ও সিয়ার গাড়িকে অনুসরণ করছিলেন ওই যুবক। তদন্তকারীদের নজর কাড়ে আরও একটি বিষয়। জুন মাসের তীব্র গরমে, যখন এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন ওই যুবকের পরনে ছিল হুডি। প্রচণ্ড গরমে কেন কেউ হুডি পরে ঘুরছেন, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় পুলিশের মধ্যে। পরে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের আরও কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেখানেও ওই যুবকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পুলিশের সন্দেহ হয়, ওই যুবকের সঙ্গে সিয়ার কোনও যোগাযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু তদন্তকারীদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁর বক্তব্যে পরিবর্তন আসে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের আনন্দঘন মুহূর্ত কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিণতিতে পৌঁছল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। 


You might also like!