Breaking News
 
Giorgia Meloni: মোদি-মেলোনি বন্ধুত্বের চর্চার মাঝেই রসিকতা,‘দিল্লি থেকে ভোটে দাঁড়ান…’, প্রস্তাব উপ-প্রধানমন্ত্রীর CM Suvendu Adhikari: বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মজয়ন্তীতে বড় ঘোষণা, বাংলায় গড়ে উঠবে জাতীয় মানের ‘বন্দে মাতরম’ মিউজিয়াম Abhishek Banerjee: ডিজে মামলায় নতুন মোড়, কণ্ঠস্বরের নমুনা নিয়ে হাই কোর্টে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ Darkest chapter: ৫০ বছর পর ইতিহাসের পাতায় জরুরি অবস্থা, এনসিইআরটি বইয়ে জায়গা পেল ইন্দিরা জমানার বিতর্কিত অধ্যায় Mamata Banerjee: একুশে জুলাইয়ে অস্তিত্বের লড়াই, ‘বেইমান নই’ বার্তায় সংগঠন ধরে রাখতে মরিয়া কালীঘাট তৃণমূল CM Suvendu Adhikari: তারাতলা বিপর্যয়ের পর বড় সিদ্ধান্ত সরকারের, কলকাতা-সহ একাধিক এলাকায় বন্ধ নির্মাণকাজ

 

Travel

2 years ago

Bargabhima Mandir: ৫১ সতীপীঠের অন্যতম তমলুকের মা বর্গভীমা মন্দির! এই পীঠ সম্পর্কে বিশদে জানুন

Devi Bargabhima (File Picture)
Devi Bargabhima (File Picture)

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ তমলুক (Tamluk) শহরের আরাধ্য দেবী মা বর্গভীমা (Bargabhima )। যে কোনও পুজোর আগে মা বর্গভীমাকে পুজো দিয়ে থাকেন তমলুকের বাসিন্দারা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সদর ঐতিহাসিক শহর তাম্রলিপ্ত বা তমলুকের আজও মধ্যমণি মা বর্গভীমা। কয়েক হাজার বছর ধরে শক্তি স্বরূপিণী আদ্যাশক্তি মহামায়া রূপে দেবী বর্গভীমার আরাধনা চলে আসছে। মতান্তরে তিনি ভীমরূপা বা ভৈরব কপালী নামেও পরিচিত। অতীতের প্রায় সব কিছুই ধ্বংসের মুখে চলে গেলেও স্বমহিমায় আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে এই সুবিশাল মন্দির। কালীপুজোয় (Kali Puja) এই মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। ফলে ভক্ত সমাগমও প্রচুর হয়। মন্দির কমিটির সম্পাদক শিবাজি অধিকারী বলেন, "যুগ যুগ ধরে তমলুকের অধিষ্ঠাত্রীদেবী রূপে মা পূজিত হয়ে আসছেন। অতীতে এই তল্লাটে কোনও শক্তিপুজোর চল ছিল না। পরবর্তীতে জেলায় শক্তিপুজোর চল শুরু হয়। এখনও সমস্ত শক্তিপুজো শুরুর অনুমতি নিতে হয় দেবী বর্গভীমার কাছ থেকে।"

ওড়িশি স্থাপত্যের আদলে বর্গভীমা মায়ের মন্দিরের দেউলের উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটার অজস্র কাজ। তার মধ্যেই মন্দিরের গর্ভগৃহে কালো পাথরে তৈরি মায়ের মূর্তি বিরাজ করছে দেবী উগ্রতারা রূপে। পুরাণ উলেখ রয়েছে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগের পর বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খণ্ডিত হয়ে তাঁর বাম পায়ের গোড়ালি এই স্থানে এসে পড়ে। আর সেই থেকেই একান্ন পীঠের অন্যতম পীঠ হিসাবে তমলুকে দেবী বর্গভীমা রূপে পূজিতা হয়ে আসছেন। তবে প্রাচীন এই মন্দিরের বয়স কত তা অনুমান করা বেশ মুশকিল।

মহাভারতে উল্লিখিত, তমলুকের (Tamluk) ময়ূর বংশীয় তাম্রধ্বজ রাজাই নাকি এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। জনশ্রুতি আছে, রাজার আদেশে সেই সময় রাজ পরিবারে রোজ জ্যান্ত শোল মাছ দিতে আসতেন এক দরিদ্র ধীবরপত্নী। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা। সারাবছর কী ভাবে জ্যান্ত মাছের জোগান দেন ওই ধীবর পত্নী? এই প্রশ্ন জাগে রাজার মনে। রাজা চেপে ধরতেই গোপন কথা ফাঁস হয়ে যায়। ধীবরপত্নী রাজাকে জানান, জঙ্গলে ঘেরা একটি কূপ থেকে জল ছিটিয়েই রোজ মরা শোলকে জ্যান্ত করে তিনি রাজ দরবারে হাজির করতেন। ধীবরপত্নীর কথামতো ওই এলাকায় রাজা গিয়ে দেখতে পান উগ্রতারা রূপী দেবী বর্গভীমার মূর্তি। সেখানেই মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন রাজা।

মায়ের নামকরণের অর্থ ব্যাখ্যা করে মন্দিরের (Bargabhima Mandir) সেবায়েত তথা আইনজীবী সমীরণ অধিকারী বলেন, ধর্ম-অর্থ-কাম ও মোক্ষ। এই চারটি বর্গ দান করেন বলেই মায়ের নাম দেবী বর্গভীমা। নীল তন্ত্র মতে মায়ের আরাধনা করা হয় এখানে। কালীপুজোর দিন রাজবেশে মাকে সাজিয়ে মহা ধুমধামে পুজো হয়। বছরের অন্য দিনগুলিতে মাকে ভোর চারটেয় স্নান করিয়ে স্বর্নালঙ্কারে সাজানো হয়। অন্নভোগে নানা ব্যঞ্জনের পাশাপাশি এখনও রোজ মাকে নিবেদন করা হয় শোল মাছের ঝোল। ভক্তরাও মাকে মিষ্টি ভোগের পাশাপাশি মনোবাঞ্ছা পূরণে তাল, ওল, কচু এবং শোল মাছ নিয়ে মন্দিরে হাজির হন। ভিন ধর্মের মানুষজনও আসেন এই মন্দিরে।

You might also like!