
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে “জিরো টলারেন্স” নীতি মেনেই প্রশাসন চলবে। বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআই-সহ অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের অনুমতিও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, “বিগত রাজ্য সরকার সিবিআই-সহ তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র আটকে রেখেছিল। সেই অনুমতি দেওয়া হল। মানুষ যে আশা নিয়ে এই সরকারকে এনেছে, সেই কাজ করা হবে।” তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন দপ্তরের আমলাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তদন্তে বাধার অভিযোগ ছিল রাজ্যের বিরুদ্ধে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, এবার থেকে সিবিআই-সহ তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েই কাজ করবে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আগের সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাদের বাঁচাতে তদন্তের ছাড়পত্র আটকে রেখেছিল। আমরা সেই অনুমতি দিলাম।”
অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল বিজেপি সরকার। তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিল্ডিং প্ল্যান না থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। তিনি জানান, বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকার “জিরো টলারেন্স” নীতি মেনে চলবে। পাশাপাশি, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবৈধ কারখানার মালিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বহুতল ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, ”তিলজলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবৈধ কারখানার মালিকদেরও।” তবে শুধু গ্রেপ্তারিতেই থেমে থাকছে না প্রশাসন। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট নির্দেশ, স্থায়ী ভাবে বিদ্যুৎ সংস্থাকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এক দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অবৈধ বহুতলও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এমন অবৈধ কারখানা যত আছে, অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ অডিট করে সেখানে সিইএসসিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদিত আলু, ফলমূল, সবজি ও অন্যান্য শস্য ভিন রাজ্যে রপ্তানির ক্ষেত্রে এতদিন সমস্যায় পড়তে হত ক্ষুদ্র ব্য়বসায়ী ও চাষিদের। বিশেষ করে আলু চাষিরা তৃণমূল সরকারের আমলে রীতিমতো হয়রানির শিকার হতেন। কিন্তু আজ থেকে তা বন্ধ হল। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, আন্তঃরাজ্য সীমানায় কৃষিজ ফসল, প্রাণী সম্পদ উৎপাদনকারীদের হয়রানি করা যাবে না। এই সংক্রান্ত একটি নোটিস জারি করেছে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, রাজ্যে কোভিড পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাজারে আলুর দাম ও যোগান নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভিন রাজ্যে আলু রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। এর ফলে আলু চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। রপ্তানিতে বিধিনিষেধ থাকায় ভিন রাজ্যে ব্যবসা হারিয়ে ফেলে রাজ্যের আলু ব্যবসায়ীরা। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অমান্য করে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর সময় বহু ট্রাক/লরি বিভিন্ন রাজ্যের সীমানায় আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন রাজ্যের ব্যবসায়ী ও চাষিরা।
পরে রাজ্য সরকারের তরফে আলু রপ্তানিতে বিধিনিষেধ সরিয়ে নেওয়া হলেও আন্তঃরাজ্য সীমানায় তার রেশ কাটেনি। অন্য রাজ্যে আলু রপ্তানির সময় সীমানায় পুলিশ প্রশাসন লাগাতার হয়রানি করে চলেছে বলে এখনও অভিযোগ উঠছে। বাংলা থেকে আলু যাওয়া বন্ধ হওয়ায় ওড়িশার মতো প্রতিবেশী রাজ্যে আলুর দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আলু না পেয়ে অন্য রাজ্য থেকে আলু কিনতে বাধ্য হয়েছে ওড়িশা সরকার। অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছে। কিন্তু সেই দিন এবার শেষ। ভিন রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীদের আলুর ব্যবসা ফেরাতে এবার উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার।
