Life Style News

6 hours ago

Relationship Advice: মুখ সামলালেই মিটবে মনোমালিন্য, শাশুড়ির সঙ্গে বজায় থাকবে মধুর সম্পর্ক! জেনে নিন বিস্তারিত কৌশল

Mother In Law—Daughter In Law Bonding
Mother In Law—Daughter In Law Bonding

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সংসারের অন্যতম চর্চিত সম্পর্কগুলির মধ্যে শাশুড়ি ও বউমার সম্পর্ক সবসময়ই বিশেষ জায়গা দখল করে রয়েছে। কখনও এই সম্পর্ক ভীষণ বন্ধুত্বপূর্ণ, আবার কখনও ছোটখাটো মনোমালিন্যেই তৈরি হয় দূরত্ব। অনেকেই মজা করে এই সম্পর্ককে “টম অ্যান্ড জেরি”-র সঙ্গে তুলনা করেন—কখনও দুষ্টুমি, কখনও খুনসুটি, আবার কখনও তীব্র মতবিরোধ। কিন্তু বাস্তবে এই সম্পর্ককে সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায় যোগাযোগের অভাব বা ভুল বোঝাবুঝি। একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থাকলেও, কখনও কখনও অসতর্কভাবে বলা কিছু কথা সম্পর্কের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় তিক্ততা তৈরি করে। তাই এই সম্পর্ককে মজবুত রাখতে হলে কথাবার্তায় সংযম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শাশুড়ির সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে কিছু কথা স্রেফ মনের মধ্যেই রাখুন। জেনে নিন কোন কোন কথা?

* প্রথমেই আসে রান্নাঘরের দখলদারি। হতেই পারে আপনার শাশুড়িমায়ের হাতের রান্না সেকেলে। কিন্তু ভুলেও তাঁর সামনে রান্নার সমালোচনা করবেন না। বিশেষ করে ‘আপনার ছেলে আমার হাতের রান্না বেশি পছন্দ করে’—এই একটি বাক্য কিন্তু যুদ্ধের দামামা বাজানোর জন্য যথেষ্ট। মনে রাখবেন, মা হিসেবে তাঁর হাতের স্বাদই ছেলের কাছে প্রথম ভালোবাসা। সেই আবেগে আঘাত না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

* শাশুড়ির দেওয়া উপহার নিয়েও সাবধান। হতে পারে তাঁর দেওয়া শাড়ি বা গয়না আপনার বর্তমান ফ্যাশনের সঙ্গে একদমই যায় না। কিন্তু ওঁর সামনে কখনও সেটির খুঁত ধরবেন না। বরং উপহারটি যে ওঁর স্নেহের দান, সেটা বুঝিয়ে দিন। তাঁর সামনে সেই জিনিসটি যত্ন করে ব্যবহার করলে সম্পর্ক অনেক বেশি ঋদ্ধ হয়।

* আরেকটি বড় ভুল হল নিজের বাপের বাড়ির সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির তুলনা করা। আপনার বাপের বাড়ির সব কিছু শ্রেষ্ঠ হলেও সেটি বার বার শাশুড়ির সামনে জাহির করবেন না। এতে তিনি অপমানিত বোধ করতে পারেন। প্রতিটি বাড়ির আলাদা আলাদা নিয়ম থাকে, সেটাকে সম্মান জানানোই শ্রেয়।

* স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত বা যৌনজীবন নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে ভুলেও কোনও আলোচনা করতে যাবেন না। এটি যেমন ওঁর জন্য অস্বস্তিকর, তেমনি আপনার ইমেজের জন্যও ক্ষতিকর। এছাড়া ‘আমি আপনার ছেলেকে আপনার চেয়েও বেশি চিনি’—এই দাবিটা ভুলেও করবেন না। এটা যেকোনও মায়ের জন্য বেশ যন্ত্রণাদায়ক।

* সংসারের শান্তি বজায় রাখতে অনেক সময় কিছু কথা না বলাই সবচেয়ে বড় সমাধান হয়ে ওঠে। সব কথা প্রকাশ করা প্রয়োজন হয় না, বরং পরিস্থিতি বুঝে নীরবতা বজায় রাখাও একটি দক্ষতা। এতে যেমন অশান্তি কমে, তেমনই সম্পর্কের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকে।

শেষ পর্যন্ত, মনে রাখতে হবে যে শাশুড়ি-বউমার সম্পর্ক শুধু দায়িত্বের নয়, এটি পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহানুভূতির উপর দাঁড়িয়ে থাকে। একটু ধৈর্য, একটু সংযম আর একে অপরের প্রতি সম্মান—এই তিনেই গড়ে উঠতে পারে এক সুন্দর, টক-ঝাল-মিষ্টি সম্পর্ক, যেখানে থাকবে না অশান্তি, বরং থাকবে শান্তি ও ভালোবাসার বন্ধন। 


You might also like!