
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে বিধানসভায় সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্য নিয়ে সোমবার বিধানসভায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অধিবেশন চলাকালীন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপরই এ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। এর আগে অধিবেশনের শুরুতেই কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজ হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান। এরপর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘‘দুটো বক্তব্য নিয়ে এফআইআর হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সব ধারা দিয়েছি। আমি এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি। দেখব কী করে। দেশে সংবিধান, আইনই শেষ কথা বলে। কোনও বাপের বেটা বলে না। আপনি এইসব হুঁশিয়ারি বন্ধ করুন। যারা ওই সভায় আপনাকে ডেকেছিল, আগে তাদের তুলব। তারপর আপনার কাছে যাব। আর এটাই আপনার শেষ বক্তব্য। এভাবে আপনাকে বেপরোয়া মন্তব্য আর করতে দেব না, দেব না, দেব না।”
শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার এক জনসভা থেকে হুমায়ুনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু, একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।” তাঁর আরও চ্যালেঞ্জ, ‘‘কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।” পরে শক্তিপুরের সভাতেও হুমায়ুনের হুঁশিয়ারি ছিল, ‘‘ভোটের আগেরদিন আমার ভাইপোকে গ্রেপ্তার করেছেন ওসি। তাঁকে আগে দেখব। তারপর ওর বাবাকে দেখব। ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে থানা থেকে একে বের করব। পারলে রুখে দেখান।”
সোমবার বিধানসভায় হুমায়ুনের সাম্প্রদায়িক মন্তব্য নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘এই দুটো ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে এনাফ ইজ এনাফ। এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর সময় এসেছে। মনে রাখবেন, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে সেসময় যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এখন এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। দুটো কেস আমরা রুজু করেছি। বিএনএস এর সব মামলা দিয়েছি। পুলিশ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে, আমি এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি। দেশে আইন শেষ কথা বলে, কোনও বাপের বেটা বলে না।”
