দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফের একসঙ্গে কণ্ঠ মেলাল ভারত ও জাপান। দু’দিনের জাপান সফরে গিয়ে টোকিও থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইসিবার সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ স্পষ্টভাবে নিন্দা করল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই অবস্থান স্পষ্টতই পাকিস্তানের অস্বস্তি আরও বাড়াতে চলেছে, এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রনেতাই দাবি করেছেন আল কায়দা, আইএস, লস্করের মতো জঙ্গি গোষ্ঠী ও তাদের ছায়াগোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। বন্ধ করতে সীমান্ত পেরিয়ে ঢোকা জঙ্গিদের কার্যকলাপও।
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৫ জন ভারতীয় পর্যটক ও এক স্থানীয় নাগরিক। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার পরে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপন করেছিল হামলাকারীরা। পরবর্তী সময়ে চালানো হয় দু’টি বড়সড় অভিযান—
• অপারেশন সিঁদুর: হামলার অব্যবহিত পরেই চালানো হয় এই অভিযান, মাত্র ২২ মিনিটে জঙ্গিদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় সেনা।
•অপারেশন মহাদেব: তিন মাসের অনুসন্ধান ও গোপন তৎপরতার পরে এই অভিযানে জঙ্গিদের নিকেশ করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অপারেশনগুলিতে ১০০ শতাংশ লক্ষ্যভেদে সাফল্য মিলেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইসিবার সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের কোনও দেশ, ধর্ম বা মানবিকতা নেই। পহেলগাঁও হামলা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-ইসিবার এই বৈঠক ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেই এগোচ্ছে। সেই সঙ্গে চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের আবহে ভারতের এই কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থানকে আরও জোরালো করে তুলবে।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করে যৌথ বিবৃতি জারি করায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষত, রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক রিপোর্টের উল্লেখ এবং জঙ্গিগোষ্ঠীর নাম প্রকাশ্যে আনায় পাকিস্তানের ভূমিকা ঘিরে আরও প্রশ্ন উঠবে।