
কলকাতা, ২০ মে : ২০০০ সালের ইউরোর পর থেকে বড় কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের টিকিট পায়নি নরওয়ে। অবশেষে ২৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে তারা। বাছাইপর্বে নরওয়ের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। আট ম্যাচের সব কটিতে জিতে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে তারা মূল পর্ব উঠেছে।
আর নরওয়ের এই সাফল্যে কৃতিত্ব রয়েছে হালান্ডের। মাত্র ২৪ বছর বয়সি হালান্ড ইতিমধ্যেই দেশের হয়ে প্রায় সব গোলস্কোরিং রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। ডি-বক্সের ভেতরে তাঁর অবিশ্বাস্য পজিশনিং সেন্স, গতি আর গোল করার নিখুঁত ক্ষুধা তাঁকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ও বিধ্বংসী ফিনিশারে পরিণত করেছে। এদিকে মাঝমাঠে ওডেগারের ক্ষুরধার পাসিং ও খেলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দলকে বাড়তি ভারসাম্য যোগাচ্ছে। তাছাড়া এবারের নরওয়ের স্কোয়াডে আছেন লিও অস্টিগার্ড, ক্রিস্টোফার আয়ার, আন্তোনিও নুসা, অস্কার বব, জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন ও আলেক্সান্দার সরলথের মতো একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার, যাঁরা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
এবার বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’য়ে ফ্রান্স, সেনেগাল এবং ইরাকের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে নরওয়েকে। এত বছর বিশ্বমঞ্চে ফেরা দলগুলোর ওপর একটা প্রত্যাশার চাপ থাকে। কিন্তু উত্তর আমেরিকায় এই দলটি যাচ্ছে কোনো বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ ছাড়াই। তবে বিশ্বকাপে নরওয়ে কতটা দূর যাবে তা সময়ই বলে দেবে।তবে এটা নিশ্চিত হালান্ডের এই দলটা এবারের বিশ্বকাপে যেকোনো পরাশক্তির স্বপ্নযাত্রায় বড় বাধা হবে।
দলের কোচ স্টেল সোলবাকেন দীর্ঘ ২৮ বছর পর নরওয়েকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরিয়ে এনেছেন। প্রাক্তন এই লড়াকু মিডফিল্ডার খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ সালের ইউরোতে দেশের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তাঁর জাদুর ছোঁয়ায় এবার বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন হয়েছে নরওয়ের।
দলের তারকা: আরলিং হালান্ড: গত দশকের শেষভাগে ফুটবল বিশ্বে উত্থান ঘটে আরলিং হালান্ডের। বিশ্ব ফুটবল তাকে এখন ভালো ভাবে চেনে। ১৫ বছর বয়সে ব্রাইনের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা ১.৯৫ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকার সালজবার্গ ও ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলার পর ম্যানচেস্টার সিটিকে জেতান প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। জাতীয় দলের হয়েও তাঁর গোলক্ষুধা বিধ্বংসী। বাছাইপর্বের মাত্র ৮ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।
বিশ্বকাপে নরওয়ে:
**র্যাঙ্কিং: ৩১
**অংশগ্রহণ: ৪ বার। ১৯৩৮, ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০২৬।
**সর্বোচ্চ সাফল্য: শেষ ষোলো (১৯৯৮ ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ ১৬তে পৌঁছানো)
**বিশ্বকাপে সাফল্য:
ম্যাচ ৮, জয় ২, ড্র ৩, হার ৩
**গ্রুপপর্বের সূচি:
১৭ জুন, ইরাক, বোস্টন ভোর ৪টা
**২৩ জুন, সেনেগাল, নিউ জার্সি, সকাল ৬টা
**২৬ জুন, ফ্রান্স, বোস্টন, রাত ১টা।
