Kali Puja 2026: কালীপুজোয় ঘুরে আসুন তারাপীঠ, নৈহাটি ও বারাসত! ভিড় এড়াতে মানুন এই জরুরি টিপস

Naihati Boro Maa
Naihati Boro Maa

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  আলো-আঁধারির উৎসব কালীপুজো মানেই শক্তির আরাধনা, ভক্তির আবহ এবং দেবী দর্শনের বিশেষ আকর্ষণ। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই উপলক্ষে নানা মন্দির ও পুজো মণ্ডপে ভক্তদের ঢল নামে। তবে কালীপুজোর মরশুমে বিশেষ জনপ্রিয় তিনটি তীর্থ ও পুজোর কেন্দ্র হল তারাপীঠ, নৈহাটির বড়মা এবং বারাসত। তিন জায়গারই রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মাহাত্ম্য। দেবী দর্শনের টানে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান এখানে। আপনিও যদি এ বছর কালীপুজোয় এই তিন জায়গার কোনও একটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তা হলে যাত্রার আগে জেনে নিন কিছু জরুরি বিষয়। কারণ উৎসবের দিনগুলিতে ভিড় সামলানো এবং নির্বিঘ্নে দর্শন সেরে ওঠার জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করে বেরোনোই সবচেয়ে ভালো। 

নিচে এই তিন জায়গার যাতায়াত ব্যবস্থা এবং থাকার গাইড দেওয়া হলো:

১. তারাপীঠ (বীরভূম)— তারাপীঠ মহাশ্মশান এবং মা তারার মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। কালীপুজোয় এখানে বিশেষ পুজো ও হোমযজ্ঞ হয়।

• কীভাবে যাবেন:

• ট্রেনে: কলকাতা (হাওড়া/শিয়ালদহ) থেকে রামপুরহাট স্টেশনগামী যেকোনো ট্রেনে উঠুন (যেমন: রামপুরহাট এক্সপ্রেস, মা তারা এক্সপ্রেস, গণদেবতা এক্সপ্রেস)। রামপুরহাট থেকে তারাপীঠের দূরত্ব মাত্র ৯ কিমি। স্টেশন থেকে অটো, টোটো বা গাড়ি পেয়ে যাবেন।

• রোডওয়েজ: ধর্মতলা বা করুণাময়ী থেকে রামপুরহাট বা সিউড়িগামী সরকারি ও বেসরকারি বাস পাওয়া যায়। নিজের গাড়ি বা ক্যাব নিয়ে এলে বর্ধমান-সিউড়ি হয়ে সরাসরি তারাপীঠ পৌঁছানো যায়।

• কোথায় থাকবেন:

• তারাপীঠ মন্দির চত্বর এবং শ্মশানের আশেপাশেই প্রচুর লজ, হোটেল এবং রিসোর্ট রয়েছে।

• কালীপুজোর সময় স্পট বুকিং পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই অন্তত ১-২ মাস আগে হোটেল বুক করে রাখা জরুরি।


২. নৈহাটি বড়মা (উত্তর ২৪ পরগনা)— নৈহাটির বড়মা কালীর খ্যাতি এখন বিশ্বজোড়া। কালীপুজোর চার-পাঁচ দিন এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।

• কীভাবে যাবেন:

• ট্রেনে: শিয়ালদহ মেইন লাইন থেকে নৈহাটিগামী বা শান্তিপুর/রানাঘাট/কৃষ্ণনগরগামী যেকোনো লোকাল ট্রেনে উঠে নৈহাটি স্টেশনে নামুন। স্টেশন থেকে মন্দির অত্যন্ত কাছে, হেঁটেই যাওয়া যায়। ভিড়ের সময় স্টেশন থেকে হেঁটে যাওয়াই একমাত্র উপায়।

• রোডওয়েজ/জলপথ: কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে বা বিটি রোড হয়ে নৈহাটি আসা যায়। হুগলি জেলা থেকে এলে চুঁচুড়া বা ব্যান্ডেল ঘাট থেকে ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে নৈহাটি ঘাটে এসে নামা সবচেয়ে সুবিধাজনক।

• কোথায় থাকবেন:

• নৈহাটি মূলত একটি লোকাল ডে-ভিজিট জায়গা। 

• যদি দূর থেকে আসেন, তবে কলকাতার কোনো হোটেলে থাকতে পারেন অথবা নৈহাটি বা কাছাকাছি কল্যাণী বা ব্যারাকপুরের গেস্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন।


৩. বারাসত (উত্তর ২৪ পরগনা)— কলকাতার পরেই দুর্গাপুজোর মতো কালীপুজোর থিম ও আলোকসজ্জার জন্য বিখ্যাত বারাসত। এখানকার প্যান্ডেল হপিং অত্যন্ত জনপ্রিয়।

• কীভাবে যাবেন:

• ট্রেনে: শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ বা হাসনাবাদ লাইনের যেকোনো লোকাল ট্রেনে উঠে বারাসত জংশনে নামুন। পুজো মণ্ডপগুলো শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকে, যার জন্য স্টেশন থেকে টোটো বা অটো ব্যবহার করতে হবে (যদিও পুজোর দিনগুলোতে অনেক রাস্তা নো-এন্ট্রি থাকে)।

• রোডওয়েজ: ভিআইপি রোড এবং যশোর রোড হয়ে বারাসত যাওয়া যায়। তবে পুজোর দিনগুলোতে ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম থাকে, তাই ট্রেনই সবচেয়ে সেরা মাধ্যম।

• কোথায় থাকবেন:

• নৈহাটির মতোই বারাসতেও মানুষ মূলত বিকেল থেকে সারারাত প্যান্ডেল ঘুরে ভোরের ট্রেনে বাড়ি ফিরে যান।

• যদি রাতে থাকতেই হয়, তবে বারাসত চত্বরে কিছু লজ এবং বাজেট হোটেল রয়েছে। অথবা কলকাতা এয়ারপোর্ট বা রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন, যা বারাসত থেকে বেশ কাছে।

জরুরি কিছু টিপস:

• ভিড় সামলানো: এই তিনটি জায়গাতেই কালীপুজোর সময় তিল ধারণের জায়গা থাকে না। পকেটমার ও ভিড় থেকে সাবধান থাকুন।

• পরিবহন: পুজোর রাতে বিশেষ লোকাল ট্রেন ও সরকারি বাস চলে, সেগুলোর সময়সূচী আগে থেকে দেখে নেবেন।




শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…