
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্ট বাতিলের খবর ঘিরে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। দিল্লি পুলিশকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, ‘দিলজিতের কনসার্ট নিয়েও এত ভয় কেন?’ যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার রাতে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে জমকালো পারফরম্যান্সে মাতালেন ‘পাঞ্জাব দি পুত্তর’। শুধু গান গেয়ে দর্শকদের মন জয় করাই নয়, ‘ককরোচ’ বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য না করায় যে সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন, মঞ্চ থেকেই তারও জবাব দিলেন দিলজিৎ। এ দিনের কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকও। ফলে দিলজিতের পাল্টা বক্তব্যের সাক্ষী থাকলেন তিনিও। তবে কনসার্টের পর কোনও পাল্টা আক্রমণ বা তিক্ততা বজায় না রেখে দিলজিৎকে ‘বড় ভাই’ বলে সম্বোধন করেন অভিজিৎ। তাঁর এই মন্তব্যে দু’পক্ষের চলতি বিতর্কে আপাতত ইতি পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে দিলজিৎকে বলতে শোনা যায়, “আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি কারণ আমি একজন শিল্পী। আমি চুপ রয়েছি, আমাকে চুপই থাকতে দিন। তবে পাশে আছি। কিন্তু পাঞ্জাবিদের কখনও শেখাবেন না কীভাবে লড়তে হয়।” আসলে গত জুলাই মাসে দেশের শিক্ষাদুর্নীতি, নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে যখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনের পাশাপাশি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল, তখন সিজেপি আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তেই ‘দায় এড়িয়ে’ দিলজিৎ বলেছিলেন, “আমি একজন শিল্পী, নেতা নই। ভাই, আমাকে এসব বিক্ষোভ থেকে দূরেই রাখো।” তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনার আবহে এহেন মন্তব্যের জেরে ব্যাপক সমালোচিত হতে হয় পাঞ্জাবি পপস্টারকে। একাংশ তাঁকে ‘কাপুরুষ’ বলে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘কোনও বিষয়ে অবস্থান নেওয়ার মতো সাহস নেই দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের।’ কেউ বা তাঁর আদর্শ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার দিল্লির মঞ্চ থেকে তাঁরই জবাব ছুড়েছেন দিলজিৎ। দর্শকাসনে দাঁড়িয়ে যার সাক্ষী ছিলেন অভিজিৎ দীপকে। তবে গায়কের এহেন কড়া বার্তার পর পালটা সুর না চড়িয়ে দীর্ঘ এক পোস্টে ‘শিল্পী’ দিলজিতের স্তুতি করেছেন দীপকে।

‘ককরোচ’ প্রধানের মন্তব্য, “পাজ্জি, জুন মাসে আমরা যখন প্রতিবাদ করছিলাম, তখন আপনার মন্তব্যে আমি কিছুটা আঘাত পেয়েছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আপনার প্রতি আমার কোনও ক্ষোভ নেই, বরং আপনাকে এমন একজন মানুষ হিসেবেই বরাবর দেখেছি, যিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন। সত্যি বলতে কী, আমি বরাবরই আপনার অনুরাগী এবং সেই শ্রদ্ধাবোধ আজও অটুট রয়েছে। এখনও আপনার গান শুনি।” শুধু তাই নয়, ওই পোস্টে নিজেকে দিলজিতের গুণমুগ্ধ হিসেবেও দাবি করেছেন দীপকে।
‘ককরোচ’ প্রধান লিখেছেন, “এই মে মাসে ভারতে ফেরার ঠিক আগে, শিকাগোতে আপনার কনসার্টেও গিয়েছিলাম। শুধু আপনার গানের জন্য নয়, বরং মানুষ হিসেবেও আমি আপনাকে গভীর শ্রদ্ধা করি। আপনার সাহস, আপনার সততা এবং নিজের শিকড়কে আঁকড়ে ধরে যেভাবে আপনি ভারতকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন— এসবই আমাকে মুগ্ধ করে। হয়তো সেই কারণেই আপনার মন্তব্য আমাকে কিছুটা কষ্ট দিয়েছিল, কারণ আমি আপনাকে সবসময়ই অনেক উঁচুতে স্থান দিয়েছি। তবে একটা মতপার্থক্য বা ভুল বোঝাবুঝি, আপনার প্রতি আমার এই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকে বদলে দিতে পারে না। যাই হোক, ছোট ভাই মনে করে বিষয়টি ভুলে যান। শেষে শুধু এটুকুই বলব যে, একজন প্রকৃত পুরুষ তো শত্রুর সঙ্গেও মিষ্টি ভাষায় কথা বলেন, আর তুমি তো জাট।”
