Entertainment

1 hour ago

Parama’s Controversial Post: গৃহসহায়িকা নিয়ে বিতর্কিত পোস্টে চাঞ্চল্য, পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

Parama Bandyopadhyay
Parama Bandyopadhyay

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালি গায়িকা ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। একসময় জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো  ‘রোজগেরে গিন্নি’র সঞ্চালিকা হিসেবে পরিচিত পরমা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতার গৃহসহায়িকাদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

পরমার দাবি, বর্তমানে কলকাতায় যাঁরা গৃহসহায়িকা হিসেবে কাজ করতে আসছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই নাকি চুরির সঙ্গে যুক্ত। তিনি লেখেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষের দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে পরে সম্পত্তি বা মূল্যবান জিনিস নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন গায়িকা। এমনকি তিনি কলকাতাকে মধ্যবিত্তের জন্য “অনিরাপদ” শহর বলেও মন্তব্য করেন এবং অপরাধে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পরমা লেখেন, ‘কলকাতায় আজকাল গৃহসহায়িকা হয়ে যারা কাজ করতে আসেন, বলতে বাধ্য হচ্ছি, তাদের বেশিরভাগই দাগি ও অভিজ্ঞ চোর। স্মার্ট ফোন আছে প্রত্যেকের । সর্বক্ষণ ভিডিয়ো কলে ব্যস্ত। কাজ করতে বললেই অনিহা । বয়স্ক মা-বাবার দেখাশোনা করতে এসে, সর্বস্বান্ত করে দিয়ে চলে গেছে এরকম অনেকগুলি ঘটনা শুনলাম। আমার নিজের বাড়িতেও হয়েছে । প্যাটার্নটা একইরকম।’

পরমার এই পোস্টে আরও লেখা, ‘কলকাতা এই মুহূর্তে মধ্যবিত্তের জন্য দেশের সব থেকে অনিরাপদ শহর বলে আমার ধারণা। এবং ক্রিমিনালদের একটা বড় অংশ মহিলা। হ্যাঁ, নিজে মেয়ে হয়ে বলতে লজ্জা করছে, কিন্তু এটাই সত্যি। আর আইনিও এদের পক্ষ নিচ্ছে, আর এরাও যখনই হাতেনাতে ধরা পড়ে যাচ্ছে, ভিক্টিম কার্ড খেলছে। আমি সত্যিই আজকাল এখানে নিরাপত্তাহীন বোধ করি।’ তবে তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতাও কম হয়নি। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে গোটা পেশাকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। অনেকেই নিজেদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন—দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত গৃহসহায়িকার উদাহরণ দিয়ে তাঁরা বলেন, বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্কও সমানভাবে বিদ্যমান।

একজন লেখেন, ‘আমার বাচ্চাকে কিছুদিন রাখতে হয়েছিল, বিভিন্ন সেন্টার থেকে যারা আসেন বেশিরভাগেরই সেরকম কাজ করার ইচ্ছে বা তাগিদ নেই, আর চুরির কথা আর কী বলবো , আমার যে কতো কি গেছে, বাচ্চাটা ঠিকঠাক আছে, এটাই রক্ষা।’ আরেকটি মন্তব্যে লেখা, ‘আমি কিন্তু ভাগ‍্যবতী,আমার গৃহসহায়িকা প্রায় ২৭বছর একইভাবে কাজ করছে এবং খুবই বিশ্বাসী (এখনও অবধি তো সেরকম অপকর্ম কিছু চোখে পড়েনি)।কখনও ছুটি চায় না, মাসে মাত্র দু’দিন ছুটি নেয়, তাও আগে থেকে বলে। আমাদের আবাসনের অনেকেই চাকরি/ কাজের জন‍্য বাড়িতে না থাকলে ওই মেয়েটির কাছেই সবার বাড়ির চাবি থাকে, ও সেইসব বাড়িতে রোজের কাজ করে আবার বাড়ি বন্ধ করে রাখে। আজ অবধি কারো কাছে ওর সম্বন্ধে নেতিবাচক কিছু শুনিনি।’

পরবর্তীতে এক মন্তব্যে পরমা স্পষ্ট করেন, পুরনো ও পরিচিত কর্মীরা সাধারণত নির্ভরযোগ্য, কিন্তু নতুনদের ক্ষেত্রেই নাকি সমস্যার সম্ভাবনা বেশি। তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনেকে একাধিক জায়গায় কাজ নিচ্ছেন এবং ধরা পড়লে অন্য পরিচয়ে নতুন করে কাজ শুরু করছেন। প্রশাসনিক নথি সংক্রান্ত জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এই পোস্ট ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে। কেউ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করছেন, আবার কেউ বলছেন—সমস্যা থাকলে তার সমাধান প্রয়োজন, কিন্তু কোনও পেশাকে সামগ্রিকভাবে দোষারোপ করা উচিত নয়। বিতর্কের মাঝেই প্রশ্ন উঠছে—নিরাপত্তা ও সামাজিক আস্থার ভারসাম্য কোথায়?

You might also like!